বাংলা হান্ট ডেস্ক : দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ পাস’ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক আর্থিক লেনদেনের তথ্য। এবার সেই তদন্তেই উঠে এল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নাম। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রকাশিত বিবৃতিতে তাঁর সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর অ্যাকাউন্ট থেকে মমতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানোর দাবি করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
মমতার (Mamata Banerjee) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার দাবি ইডির
প্রসঙ্গত, দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং UNESCO-র নাম ব্যবহার করে টাকা সংগ্রহের অভিযোগে ইন্দ্রনীল সেনকে ঘিরে ED-র এই তদন্তের সূত্রপাত। এই মামলায় মঙ্গলবার তাঁর বাড়ি-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়। পরের দিন সল্টলেকের ED দফতরে হাজির হন প্রাক্তন মন্ত্রী। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপরই তদন্তের আর্থিক দিক নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
ED-র বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দ্রনীল সেন এবং তাঁর মালিকানাধীন ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাঁর মন্ত্রী থাকাকালীন নগদ ৩.৮ কোটিরও বেশি টাকা জমা পড়ার তথ্য তদন্তে পাওয়া গিয়েছে। সেই একই সংস্থার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কিং চ্যানেলের মাধ্যমে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছে ED। সংস্থাটির বক্তব্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে ইন্দ্রনীল জানিয়েছেন, ওই অর্থ রয়্যালটি বাবদ দেওয়া হয়েছিল।
কিন্তু ঠিক কোন কাজ বা সৃষ্টির জন্য এই রয়্যালটি দেওয়া হয়েছিল, ED-র প্রকাশিত বিবৃতিতে তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে ওই ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেন ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ED-র ওই বিবৃতিতে এই নির্দিষ্ট লেনদেনকে কোনও অপরাধমূলক কাজ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। তদন্তের অংশ হিসেবেই আর্থিক লেনদেনটির তথ্য সামনে আনা হয়েছে।
এর পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেনের মন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের আরও কিছু আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখছে ED। সংস্থার দাবি, সেই সময়ে পর্যটন ও সংস্কৃতি দফতরের ৮৫ কোটি টাকার বেশি মূল্যের একাধিক টেন্ডার ইন্দ্রনীলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ধ্রুবজ্যোতি বোস ও দীপেশ রায়ের সংস্থাগুলি পেয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য, পরবর্তী সময়ে ওই সংস্থাগুলি থেকে ইন্দ্রনীলের আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণাধীন সংস্থাতেও টাকা গিয়েছিল।
দুর্গাপুজোর প্রিভিউ পাস সংক্রান্ত মূল অভিযোগেও বড় অঙ্কের অর্থের হিসাব খতিয়ে দেখছে ED। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, UNESCO-র সঙ্গে সরকারি বা অনুমোদিত সম্পর্ক থাকার দাবি করে ‘মাসআর্ট’-এর মাধ্যমে বিভিন্ন পুজোর প্রিভিউ শোর টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এক লক্ষেরও বেশি এমন টিকিট বিক্রি হয়েছিল বলে ED জানিয়েছে। এই টিকিট বিক্রির অর্থের পরবর্তী গতিপথও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে টাকা যাওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে প্রতিক্রিয়া। গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নেতা তথা মদন মিত্র বলেন, “মমতা ইন্দ্রনীল সেনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, এটা ভাবতে আমার অসুবিধা হচ্ছে।” অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ এই লেনদেনের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, “এটা রয়্যালটি না বলে কাটমানি বলাই ভালো। এর আগে এই বিষয়ে আমি বারবার বলেছি যে, এই ঘটনার পিছনে মমতার হাত আছে, মাথা আছে।”

আরও পড়ুন : পেরিয়ে গিয়েছে ডেডলাইন, শিশুদের ‘বাল আধার’ আপডেট না করালে কী হবে?
তবে এই মুহূর্তে তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু শুধু ওই ৩০ লক্ষ টাকার লেনদেন নয়। প্রিভিউ পাস থেকে সংগৃহীত অর্থ কোথায় গিয়েছে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কীভাবে টাকা ঘুরেছে এবং এই গোটা ব্যবস্থার সঙ্গে কারা যুক্ত ছিলেন—সেই প্রশ্নগুলিও খতিয়ে দেখছে ED। ফলে তদন্ত আরও এগোলে এই আর্থিক লেনদেন ঘিরে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।













