বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফসলের ক্ষতি রুখতে মাঠ পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পাহারার সময়ই নাকি বন্দুকের গুলি চলল, আর তার পরেই একের পর এক বানরের মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। ছত্তিশগড়ের (Chattisgarh) বেমেতারা জেলার দেবগাঁও (Devgaon) এলাকায় ২২টিরও বেশি বানরের (Monkey) মৃত্যুর খবর ঘিরে এমনই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটি দাড়ি থানা এলাকার বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ফসলের জমিতে বারবার ঢুকে পড়া বানরদের তাড়ানোর জন্য নিযুক্ত এক ব্যক্তি গুলি চালিয়েছিলেন। সেই গুলিতেই বেশ কয়েকটি বানরের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
বন্দুকের গুলিতে ২২ টি বাঁদরের মৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছত্তিশগড়ে (Chattisgarh):
স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেবগাঁও এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই বানরের একটি দল ফসলের ক্ষতি করছিল। বিশেষ করে চাষের জমিতে ঢুকে পড়ে তারা ফসল নষ্ট করছিল বলে অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকজনকে জমি পাহারা এবং বানর তাড়ানোর কাজে রাখা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের বক্তব্য। অভিযোগ, বানরদের দূরে সরিয়ে দেওয়ার বদলে তাদের লক্ষ্য করে বন্দুক ব্যবহার করা হয়। এরপরই একাধিক বানরের মৃত্যু হয়। যদিও গুলি ঠিক কে চালিয়েছিলেন, কতগুলি বানর গুলিতে মারা গিয়েছে এবং ঘটনাটি ঠিক কীভাবে ঘটেছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়। স্থানীয়ভাবে ২২টিরও বেশি মৃত্যুর কথা বলা হলেও সরকারি তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই সংখ্যা নিশ্চিত বলে ধরা হচ্ছে না।
ঘটনার খবর সামনে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পশুপ্রেমীদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, ফসলের ক্ষতি হলে তার মোকাবিলায় প্রশাসনিক বা নিরাপদ উপায় খোঁজা উচিত ছিল। বন্যপ্রাণীর উপর গুলি চালানোর অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর বলেই দাবি তাঁদের। ইতিমধ্যেই দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, যদি তদন্তে সত্যিই বানরদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর প্রমাণ মেলে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে এখনই কাউকে অভিযুক্ত বা দোষী হিসেবে চিহ্নিত করেনি প্রশাসন।
আরও পড়ুন: পুজো চলাকালীন আচমকাই ইটবৃষ্টি! আমেরিকার স্বামীনারায়ণ মন্দিরে ফের হামলা
অন্যদিকে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর দাড়ি থানা পুলিশ এবং বন দফতরের দল তদন্তে নেমেছে। কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। বানরগুলির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, কোনও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না এবং এর পিছনে মানুষের সরাসরি ভূমিকা ছিল কিনা—এসব বিষয়ই এখন তদন্তের আওতায় রয়েছে। মৃত প্রাণীর সংখ্যা নিয়েও যাচাই চলছে। তদন্তকারীদের হাতে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। ফলে এই মুহূর্তে স্থানীয়দের অভিযোগকে তদন্তের ফলাফল হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

বেমেতারার এই ঘটনা নতুন করে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের বিষয়টিও সামনে এনেছে। ফসলের ক্ষতি ঠেকাতে গ্রামাঞ্চলে বানরের উপদ্রব নিয়ে অভিযোগ থাকলেও, তার মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একদিকে কৃষকদের ফসল রক্ষা, অন্যদিকে বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা—দুই দিকই সামলানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আপাতত পুলিশের পাশাপাশি বন দফতরের তদন্তের দিকেই নজর। ২২টিরও বেশি বানরের মৃত্যুর যে দাবি উঠেছে, তার প্রকৃত সংখ্যা, মৃত্যুর কারণ এবং গুলি চালানোর অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।













