বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শিক্ষকদের (Teachers) মূল দায়িত্ব পড়ানো এবং ছাত্রছাত্রীদের দেখভাল করা। কিন্তু সেই দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষকদের একাংশ স্কুলে স্কুলে ঘুরে জীবন বিমা ও মেডিক্লেম বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিমা বিক্রির বদলে তাঁরা কমিশনও পাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগ করেছে একটি শিক্ষক সংগঠনই। বিষয়টি জানিয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের কাছে অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে শিক্ষকদের (Teachers) বিরুদ্ধে কী অভিযোগ?
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, রাজ্যের কিছু শিক্ষক (Teachers) স্কুলের কাজের বাইরে গিয়ে এইভাবে বিমা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। কখনও তাঁরা বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, আবার কখনও সভা বা জমায়েতের আয়োজন করে সেখানে বিমা বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সমিতির দাবি, এই শিক্ষকদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে এখনও শিক্ষামন্ত্রীর কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষা দপ্তরের কর্তাদের বক্তব্য, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ডিআই-দের খতিয়ে দেখা উচিত।
সার্ভিস রুল না মানার অভিযোগ
সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, ২০১৮ সালের শিক্ষকদের (Teachers) সার্ভিস রুলে যে নিয়ম রয়েছে, বিমা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকেরা তা মানছেন না। তাঁর আরও অভিযোগ, কেউ কেউ নিজেদের শিক্ষক নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে অন্য শিক্ষকদের বিভিন্ন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলছেন।
কম টাকায় মেডিক্লেম বা জীবন বিমা করিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। স্বপন মণ্ডলের অভিযোগ, কখনও দল বেঁধে বিভিন্ন স্কুলের স্টাফরুমে গিয়ে বিমা বিক্রি করা হচ্ছে। আবার কখনও সম্মেলন বা অন্য কোনও জমায়েতকেও এই কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা ভালো অঙ্কের কমিশন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ।
বেসরকারি বিমা সংস্থার প্রস্তাবের কথাও জানালেন প্রধান শিক্ষক সংগঠনের নেতা
পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণাংশু মিশ্র জানিয়েছেন, তাঁর কাছেও এমন অভিজ্ঞতা এসেছে। তাঁর বক্তব্য, সরাসরি কোনও শিক্ষক তাঁকে বিমা বিক্রির কথা বলেননি। তবে কয়েকটি বেসরকারি বিমা সংস্থা তাঁকে জানিয়েছিল, সম্মেলনের পুরো খরচ তারা বহন করতে রাজি। এর পরিবর্তে সেখানে বিমা বিক্রির সুযোগ করে দিতে হবে।
তবে প্রধান শিক্ষকদের আর একটি সংগঠন অ্যাডভান্স সোসাইটির পক্ষে চন্দন মাইতির বক্তব্য কিছুটা আলাদা। তাঁর মতে, শিক্ষকদের জন্য সরকারি জীবন বিমা বা মেডিক্লেমের ব্যবস্থা না থাকায় এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, রাজ্য সরকারের কাছ থেকে শিক্ষকদের জন্য হেলথ স্কিম এবং অন্যান্য সুবিধা আদায় করা গেলে এই সমস্যা অনেকটাই মিটতে পারে।
নাম না নিলেও তথ্যপ্রমাণ দেওয়ার দাবি
স্বপন মণ্ডল তাঁর অভিযোগে কোনও শিক্ষকের নাম উল্লেখ করেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কথা বলার সময় দিলে কারা এই কাজ করছেন, তাঁদের নাম এবং প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ সবই তাঁরা দিতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ রেশন কার্ড থাকলেও বন্ধ হতে পারে রেশন! কোন ভুলে এমন হবে, জেনে নিন
অন্যদিকে, অল পোস্ট গ্র্যাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন গরাই জানিয়েছেন, শিক্ষকদের (Teachers) জন্য সরকারি হেলথ স্কিম না থাকায় তাঁদের সংগঠনের সদস্যদের জন্য বেসরকারি মেডিক্লেমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর ফলে কম প্রিমিয়ামে বিমার সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে এবং শিক্ষকরা সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আসছেন। এখন এই অভিযোগ সামনে আসার পর শিক্ষা দপ্তর বা রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।













