বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফোন না ধরলেই চলে যেত গ্রাহক! সমস্যাকে সুযোগ বানিয়ে ১ বিলিয়ন ডলারের সফল (Success Story) স্টার্টআপ অপূর্ব শ্রীবাস্তবের (Apurva Shrivastava)। ব্যবসার দুনিয়ায় একটি ফোনকলের গুরুত্ব অনেক সময় ভাবনার থেকেও বেশি। বিশেষ করে ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে কোনও সম্ভাব্য গ্রাহকের ফোন ধরতে না পারা মানেই হাতছাড়া হতে পারে একটি অর্ডার বা বড় কাজ। ছোটবেলায় বাবা-মায়ের ব্যবসায় ফোনকল সামলাতে গিয়ে এই সমস্যাটিই কাছ থেকে দেখেছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা অপূর্ব শ্রীবাস্তব। মিশিগানে (Michigan) বেড়ে ওঠা অপূর্ব লক্ষ্য করেছিলেন, ব্যবসায় ফোন মিস হলেই অনেক গ্রাহক আর অপেক্ষা না করে অন্য দোকান বা পরিষেবা প্রদানকারীর কাছে চলে যেতেন। সেই অভিজ্ঞতা বহু বছর পর তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। আর সেই সাধারণ সমস্যাকেই প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা থেকেই তৈরি হয় AI স্টার্টআপ অ্যাভোকা।
অপূর্ব শ্রীবাস্তবের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
MIT-তে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করা অপূর্ব ২০২২ সালে সহ-প্রতিষ্ঠাতা টাইসন চেনের সঙ্গে অ্যাভোকা শুরু করেন। একটি পোকার খেলার আসরে দু’জনের পরিচয় হয়েছিল। মজার বিষয় হল, চেনের জীবনেও একই ধরনের অভিজ্ঞতা ছিল। তাঁর মা পেনসিলভানিয়ায় একটি আকুপাংচার ক্লিনিক চালাতেন। সেখানে ফোন ধরতে না পারার কারণে সম্ভাব্য রোগীরা অন্য চিকিৎসকের কাছে চলে যেতেন। ফলে দু’জনেই বুঝতে পারেন, মিসড কল কোনও ছোটখাটো অসুবিধা নয়; ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে তা সরাসরি রাজস্ব হারানোর কারণ হতে পারে। সেই সমস্যা মাথায় রেখেই তাঁরা এমন একটি AI-ভিত্তিক পরিষেবা তৈরির পরিকল্পনা করেন, যা ব্যবসার হয়ে ফোনের উত্তর দিতে পারবে।
আরও পড়ুন: বড় ছাড়! কোন কোন পেমেন্টের ক্ষেত্রে MDR মাত্র ৫ টাকা? জানিয়ে দিল NPCI
শুরুতে অ্যাভোকার নজর ছিল রেস্তোরাঁ ব্যবসার দিকে। কিন্তু বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতারা বুঝতে পারেন, গৃহ পরিষেবা বা হোম সার্ভিসেসের ক্ষেত্রে এই সমস্যার আর্থিক প্রভাব অনেক বেশি। প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, HVAC টেকনিশিয়ান কিংবা ছাদ মেরামতির মতো পরিষেবায় একটি ফোনকলের পিছনে থাকতে পারে হাজার হাজার ডলারের কাজ। টাইসন চেনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনও রেস্তোরাঁ একটি ফোন না ধরলে হয়তো ৩০-৪০ ডলারের অর্ডার হারাতে পারে। কিন্তু একই ঘটনা কোনও হোম সার্ভিস সংস্থার ক্ষেত্রে ঘটলে কয়েক হাজার বা তারও বেশি মূল্যের একটি বড় প্রকল্প হাতছাড়া হতে পারে। এই জায়গাতেই তাঁরা বিশাল ব্যবসায়িক সম্ভাবনা দেখতে পান।
এই সমস্যার সমাধানেই অ্যাভোকা তৈরি করেছে AI-ভিত্তিক ভয়েস এজেন্ট। কোনও কর্মী ফোন ধরতে না পারলে বা কল ভয়েসমেইলে চলে যাওয়ার পরিবর্তে AI এজেন্ট সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলতে পারে। শুধু ফোনের উত্তর দেওয়াই নয়, সংস্থার ক্যালেন্ডারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা পরিষেবার সময়ও বুক করতে পারে এই প্রযুক্তি। এমনকি কোনও গ্রাহক মূল্য উদ্ধৃতি পাওয়ার পর আর যোগাযোগ না করলে, AI স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাঁর সঙ্গে ফের যোগাযোগ করার কাজও করতে পারে। অর্থাৎ ফোন ধরা থেকে শুরু করে সম্ভাব্য গ্রাহককে পরিষেবায় পরিণত করা—পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বয়ংক্রিয় করার লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে অ্যাভোকা।

আরও পড়ুন: বকেয়া সম্পত্তি কর মেটানোর দারুণ সুযোগ! সুদ ও জরিমানা সম্পূর্ণ মকুবের ঘোষণা হাওড়া পুরসভার
এই ব্যবসায়িক মডেলই খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাভোকা ইতিমধ্যেই ১২৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে এবং সংস্থাটির মূল্যায়ন ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। ক্লেইনার পার্কিনসও ২০২৬ সালে অ্যাভোকাতে বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে এবং অপূর্ব শ্রীবাস্তব ও টাইসন চেনকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফলে বাবা-মায়ের ছোট ব্যবসায় কিশোর বয়সে ফোন ধরতে গিয়ে যে সমস্যাটি অপূর্ব দেখেছিলেন, সেটিই আজ AI-নির্ভর একটি বড় ব্যবসার ভিত্তি। একটি সাধারণ ‘মিসড কল’-এর মধ্যে যে এত বড় বাজারের সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকতে পারে, অ্যাভোকার উত্থান তারই উল্লেখযোগ্য উদাহরণ (Success Story)।













