বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর সরকারি অনুদান (Government Grant) থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত একের পর এক বড় দুর্গাপুজো কমিটির। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনের পর কলকাতার বেশ কয়েকটি নামী পুজো সরকারি আর্থিক সাহায্য না নেওয়ার কথা জানিয়েছে। কেউ আবার সরকারি টাকা হাতে এলেও তা ত্রাণ তহবিলে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে নতুন সরকারের প্রথম বছরে দুর্গাপুজোর অনুদান ঘিরে তৈরি হয়েছে অন্যরকম পরিস্থিতি।
পুজোর অনুদান (Government Grant) থেকে কত টাকা বাঁচছে সরকারের?
সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার, চেতলা অগ্রণী, ত্রিধারা সম্মিলনী, নাকতলা উদয়ন সঙ্ঘ, সুরুচি সঙ্ঘ, টালা প্রত্যয়, হাতিবাগান সর্বজনীন, আহিরিটোলা সর্বজনীন, নিউটাউন সর্বজনীন, মুদিয়ালি ক্লাব, সন্তোষপুর লেকপল্লি, চোরবাগান সর্বজনীন, শ্যাম স্কোয়ার সম্মিলনী, বাবুবাগান সর্বজনীন, ফুলবাগান সার্বজনীন, সিংহী পার্ক এবং ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক-সহ একাধিক পুজো কমিটি জানিয়েছে, তারা এ বছর সরকারের কাছ থেকে অনুদান নেবে না।
মুখ্যমন্ত্রী পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বড় বাজেটের পুজোগুলির উদ্দেশে এই আবেদনই করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, যেসব পুজো নিজেদের খরচে আয়োজন চালিয়ে নিতে পারে, তারা সরকারি অর্থ না নিলে তুলনামূলক ছোট পুজোগুলি সেই সুবিধা পেতে পারে। সেই বার্তার পরেই মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতার একাধিক পুজো কমিটি অনুদান প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনে।
কিছু কমিটি অবশ্য আরও একধাপ এগিয়েছে। রাজডাঙা নব উদয় সঙ্ঘের তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি অনুদানের এক লক্ষ টাকা তাঁদের কাছে এলে পুরো অর্থ মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা করা হবে। একই পথে হাঁটার কথা জানিয়েছে নিউ আলিপুরের সুরুচি সঙ্ঘও। তাদের সিদ্ধান্ত, পুজোর উদ্বোধনের দিন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে ওই অর্থ ‘রিটার্ন গিফট’ হিসেবে তুলে দেওয়া হবে। তবে বড় পুজোগুলির একাংশ সরে দাঁড়ালেও রাজ্যের সামগ্রিক ছবিতে অনুদানের আবেদন কমেনি বলেই প্রশাসনিক পরিসংখ্যান থেকে ইঙ্গিত মিলছে।
রাজ্য পুলিশের আওতায় থাকা আনুমানিক ৬০ হাজার পুজো কমিটির মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় ৫৭ হাজার কমিটি সরকারি সাহায্যের জন্য আবেদন করেছে। কলকাতাতেও প্রায় ২,৭০০টি পুজো কমিটি অনুদানের তালিকায় রয়েছে। এবারের অনুদান নিয়ে অবশ্য শুরু থেকেই কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছিল, চলতি বছর আদৌ পুজোর জন্য সরকারি অর্থ দেওয়া হবে কি না। পরে পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই জটিলতা অনেকটাই কাটে। সেই বৈঠকেই বড় পুজোগুলিকে সরকারি সাহায্য ছেড়ে দেওয়ার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন :নেপালে তল্লাশি থামতেই শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে নয়া আশঙ্কা! কী লিখলেন শুভ্রাংশু?
প্রসঙ্গত, রাজ্যে দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে সরকারি আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রথা শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। তখন কমিটিপিছু বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার টাকা। এরপর ধাপে ধাপে সেই অর্থ বেড়ে ২৫ হাজার, ৫০ হাজার, ৬০ হাজার, ৭০ হাজার এবং ৮৫ হাজার টাকায় পৌঁছয়। গত বছর অনুদান ছিল ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। চলতি বছরে তা কমিয়ে ১ লক্ষ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর আবেদনে সাড়া দিয়ে প্রায় ৩ হাজার পুজো কমিটি এবার সরকারি সাহায্য না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। এর ফলে সরকারের প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় কমতে পারে। নতুন সরকারের প্রথম বছরের পুজোয় তাই অনুদান ঘিরে এই ভিন্ন সমীকরণই নজর কাড়ছে।













