বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ বেশিদিন আগের কথা নয়। দেড় মাস আগে এই যুবভারতীতেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) কাছে লজ্জার হার হেরে ডুরান্ড শিরোপা হাতছাড়া হয়েছিল মোহনবাগানের (Mohun Bagan)। কিন্তু আইএসএল শুরু হওয়ার আগেই সেই হারের বদলা নিয়ে নিলো সবুজ মেরুণ শিবির। সমীর জেলকোভিচের একমাত্র গোলে হাবাসের লাল-হলুদ ব্রিগেডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার আইএফএ শিল্ডের (2026 IFA Shield) খেতাব ঘরে তুললো মোহনবাগান।
এদিন ফাইনালের গুরুত্ব বুঝে নিজেদের সবচেয়ে শক্তিশালী দল নামিয়েছিল মোহনবাগান। গোল ছাড়াও ম্যাচে তাদের দাপট ছিল অনেক বেশি। শক্তিশালী মোহনবাগানের সামনে ইস্টবেঙ্গল আক্রমনণভাগ এদিন ছিল পুরোপুরি নিষ্প্রভ। গোটা ৯০ মিনিটে গোল লক্ষ্য করে একটিও শট নিতে পারেনি লাল-হলুদ শিবির।

এই নিয়ে চলতি মরশুমের তিন মাসে চারটি ডার্বিতে একে অপরের মুখোমুখি হলো ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। ডুরান্ড কাপে একে অপরের বিরুদ্ধে দুইবার দেখা হয়েছিল তাদের। গ্রূপপর্বে মোহনবাগান ০-১ ফলে জিতলেও ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল ৪-১ ফলে বিশাল জয় পায়।
আরও পড়ুন: ব্রাজিল, পানামা ম্যাচের সুখস্মৃতি ভুলিয়ে ভারতকে গোলের মালা পড়িয়ে কঠোর বাস্তবের ছোঁয়া দিল উরুগুয়ে
এরপর কলকাতা লিগের সাক্ষাতে মোহনবাগানের সিনিয়র দলকে ১-১ ফলে রুখে দেয় ইস্টবেঙ্গল জুনিয়র দলের ছেলেরা। এরপর আজ আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ফের তারা মুখোমুখি হয়। সাম্প্রতিক ফর্মের ভিত্তিতে ইস্টবেঙ্গল এগিয়ে থাকলেও নিজের দলের ওপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখেছিলেন সবুজ-মেরুণ শিবিরের গ্রিক কোচ প্যানাগিওটিস ডিলেমপেরিস। তার ভরসার মান রেখে চলতি মরশুমে মোহনবাগানকে দ্বিতীয় ট্রফি উপহার দেন ফুটবলাররা। চোট নিয়েও অনবদ্য ফুটবল খেলেন ড্রাজিচ। দলের ফুটবলারদের লড়াই খুশি করেছে সমর্থকদের।
আরও পড়ুন: কেন বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেছিল আর্জেন্টিনা? লিওনেল মেসির বিদায়ী বক্তব্যে ফাঁস হলো আসল রহস্য
এদিন ম্যাচ চলাকালীন মেজাজ হারিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। হাফ টাইমে মোহনবাগান গোলের সময় রেফারির চোখ এড়িয়ে যাওয়া ফাউল নিয়ে তীব্র সরব হন তিনি। কিন্তু তার জেদের ছিটেফোঁটা দেখা যায়নি ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারদের মধ্যে। গত ডার্বির হিরো এডমুন্ড এদিন দিশাভ্রষ্টের মতো ফুটবল খেললেন। বাকি দলের মধ্যেও ছিল না তালমিল। আর চারদিনের মধ্যে এসিএল টু-এর লড়াইয়ে ভারতের সম্মান হাতে নিয়ে মাঠে নামবেন লাল হলুদ ফুটবলাররা। তার আগে এই ফল চিন্তায় ফেলে দিয়েছে সমর্থকদের। অনেকেই আজকের এই হারের জন্য ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাসের অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে দোষ দিচ্ছেন। সেমিফাইনালে নর্থইস্টকে ৭-২ ফলে উড়িয়ে দেওয়া দলে অতিরিক্ত পরিবর্তন করেই দলের ব্যালেন্স নষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।













