৩ বন্ধুর হাত ধরে শুরু সফর! আজ ভারতের ঘরে ঘরে পৌঁছেছে নটরাজ পেনসিল, কীভাবে এল সফলতা?

Published on:

Published on:

Success Story of Nataraj Pencil will Amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজকের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) এমন এক নস্টালজিয়াকে নিয়ে যা এক সময় বাচ্চাদের পড়াশোনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। স্কুলের খাতায় প্রথম অক্ষর লেখা, পরীক্ষার আগে পেন্সিল শার্প করা কিংবা রাবার দিয়ে ভুল মুছে আবার নতুন করে শুরু—এমন কত স্মৃতির সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে লাল-কালো নটরাজ পেন্সিল (Nataraj Pencil)। বহু প্রজন্মের ভারতীয়ের কাছে এটি শুধু লেখার উপকরণ নয়, ছোটবেলার আবেগেরও অংশ। সময় বদলেছে, পড়াশোনার ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়লেও নটরাজের পরিচিত লাল-কালো চেহারা আজও স্টেশনারির দোকানে চোখে পড়ে।

নটরাজ পেন্সিলের সাফল্যের নেপথ্যের অসাধারণ কাহিনি Success Story)

এই পরিচিত ব্র্যান্ডের যাত্রা শুরু স্বাধীনতার পরের ভারতে। সে সময় উন্নত মানের পেন্সিলের জন্য বিদেশি পণ্যের উপর নির্ভর করতে হত অনেককেই। সেই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্যেই তিন বন্ধু—বি এস সাংভি, রামনাথ মীরা এবং মনসুখানি—জার্মানিতে গিয়ে পেন্সিল তৈরির বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে ১৯৫৮ সালে মুম্বইয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠা করেন হিন্দুস্তান পেন্সিলস লিমিটেড। তাঁদের ভাবনা ছিল, মান বজায় রেখেই এমন পেন্সিল তৈরি করা, যা সাধারণ পরিবারের নাগালের মধ্যে থাকবে।

আরও পড়ুন: অনুমতি না মিললেও কমেনি বিক্ষোভের আঁচ! দিল্লিতে মোতায়েন ২৫,০০০-এরও বেশি নিরাপত্তা কর্মী

এর পর বাজারে আসে নটরাজ। ভগবান শিবের নটরাজ রূপ থেকে নামটি নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। মসৃণ লেখার সুবিধা, সহজে ভেঙে না যাওয়ার মতো সিসা এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দাম—এই বৈশিষ্ট্যগুলি ব্র্যান্ডটিকে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ১৯৭০-এর দশকে সংস্থার আর এক পরিচিত ব্র্যান্ড অপ্সরা বাজারে জায়গা করে নেয়। আঁকা ও তুলনামূলক উন্নত মানের লেখার সরঞ্জামের ক্ষেত্রে অপ্সরা আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলে।

বর্তমানে হিন্দুস্তান পেন্সিলসের পণ্য শুধু ভারতেই নয়, বিদেশের বাজারেও পৌঁছেছে। সংস্থাটির উৎপাদন ও বাজারের অংশীদারিত্ব নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান প্রচলিত থাকলেও, নটরাজ ও অপ্সরা যে দেশের পরিচিত স্টেশনারি ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে অন্যতম, তা বলাই যায়। পেন্সিলের পাশাপাশি শার্পনার, রাবার এবং কলমের মতো নানা সামগ্রীও তৈরি করে সংস্থাটি।

Success Story of Nataraj Pencil will Amaze you.

আরও পড়ুন: ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই পেলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার! নেলসন ম্যান্ডেলার হয়ে লড়েছিলেন মামলা

নটরাজের জনপ্রিয়তার পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পরিচিতি, সহজলভ্যতা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তৈরি হওয়া আস্থা। পেন্সিল তৈরিতে ব্যবহৃত কাঠের জোগান ও পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নিয়েও সংস্থার উদ্যোগের কথা বলা হয়। প্রযুক্তি যতই এগোক, স্কুলজীবনের প্রথম লেখার স্মৃতিতে নটরাজের জায়গা এখনও বিশেষ। তাই লাল-কালো এই পেন্সিলের গল্প আসলে একটি ব্র্যান্ডের সাফল্যের (Success Story) পাশাপাশি বহু ভারতীয়ের শৈশবের গল্পও।