বাংলাহান্ট ডেস্ক : ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ এবার ছড়িয়ে পড়ছে সমাজমধ্যমেও (Social Media)! এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ দাবি করছেন বিরোধী নেতারা। দিল্লির যন্তর মন্তর-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর, বিভ্রান্তিকর পোস্ট এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি ছবি ও ভিডিয়োর ছড়াছড়ি রুখতে পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। ৮ অক্টোবর জারি করা একটি নির্দেশিকায় বড় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে বেআইনি কনটেন্টের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে নির্দেশিকার পরিধি শুধু SIR-বিক্ষোভেই সীমাবদ্ধ কি না, তা সরকারি নথি দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
SIR বিক্ষোভের আবহে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) প্ল্যাটফর্মগুলিকে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের:
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও ছবি বা ভিডিয়ো সম্পাদনা করে কিংবা ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট আড়াল করে তা সাম্প্রতিক ঘটনা বলে প্রচার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে এমন পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং সামাজিক অশান্তির আশঙ্কা থাকে। তাই এ ধরনের কনটেন্ট চিহ্নিত করা এবং তার বিস্তার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ২০২১ সালের সংশ্লিষ্ট নিয়ম মেনে বেআইনি পোস্টের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার কথাও নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে (Social Media)।
আরও পড়ুন: LPG আমদানিতে বড় বদল! ভারতে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে আমেরিকাকে টেক্কা দিল এই দেশ
নির্দেশিকা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমন কোনও পোস্ট নিয়ে অনুমোদিত সরকারি সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অভিযোগ এলে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে তা অগ্রাধিকার দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রযোজ্য আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করতে হবে। তবে কোনও অভিযোগ উঠলেই কোনও পোস্টকে বেআইনি বলে ধরে নেওয়া যায় না। কনটেন্টের প্রকৃতি, প্রেক্ষাপট এবং আইনি অবস্থান বিবেচনা করেই পদক্ষেপ করা জরুরি। একই সঙ্গে বেআইনি তথ্যের বিস্তার রুখতে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিয়োর ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃত্রিমভাবে তৈরি বা বিকৃত কোনও দৃশ্যকে যদি বাস্তব এবং সাম্প্রতিক ঘটনার ছবি বলে চালানো হয়, তা হলে সেটিকে চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লেবেল ও প্রেক্ষাপট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, কোনও খবর, ছবি বা ভিডিয়ো শেয়ার করার আগে তার উৎস, সত্যতা এবং সময়কাল যাচাই করার বিষয়ে ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে প্ল্যাটফর্মগুলিকে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুরনো ফুটেজকে নতুন ঘটনার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা কিংবা বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দিয়ে তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা ঠেকানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে ‘ভোটচুরি’-র অভিযোগ বিরোধী জোটের! প্রমাণ চাইলেন দ্রৌপদী মুর্মু
এদিকে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যদিকে, এই বিতর্কের মধ্যেই ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব ছড়ানো রুখতে কেন্দ্রের উদ্যোগ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ভুয়ো তথ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, অন্যদিকে বৈধ রাজনৈতিক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারও অক্ষুণ্ণ রাখা প্রয়োজন। ফলে নির্দেশিকার প্রয়োগ কতটা স্বচ্ছভাবে হয় এবং সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি কীভাবে তা কার্যকর করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে (Social Media)।













