রয়েছে জার্মান নাগরিকত্ব? কীভাবে আন্দোলনে যোগ দিলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি? উঠছে প্রশ্ন

Published on:

Published on:

How did Dhruv Rathee join the movement in India despite holding German citizenship?
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (Gyanesh Kumar) পদত্যাগ এবং SIR প্রক্রিয়া প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। এই আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে এসেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে (Dhruv Rathee)। তবে দিল্লির যন্তর মন্তরে নির্ধারিত কর্মসূচিতে পৌঁছনোর আগেই শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনার পরেই তাঁর ভারতে প্রবেশ, নাগরিকত্ব এবং ভিসার শর্ত নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বেঙ্গালুরুর প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে চিঠি লিখে ধ্রুবর সফরসংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন। যদিও তাঁর ভিসা বা নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা প্রশ্নের কোনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

জার্মানের নাগরিকত্ব নিয়ে কীভাবে ভারতে আন্দোলনে যোগ দিলেন ধ্রুব রাঠি (Dhruv Rathee)?

দক্ষিণী অভিনেতা প্রকাশ রাজের দাবি অনুযায়ী, গত বুধবার, ৭ অক্টোবর ভারতে আসেন ধ্রুব (Dhruv Rathee)। পরের দিন বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে এসআইআর-বিরোধী বিক্ষোভেও যোগ দেন তিনি। পরে একটি ভিডিয়ো বার্তায় শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি (CJP)-র বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা জানান ইউটিউবার। একই সঙ্গে অন্যদেরও কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছিলেন তিনি বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু দিল্লির ওই বিক্ষোভের অনুমতি না থাকায় কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁকে আটক করা হয় বলে দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, আটকের সঙ্গে তাঁর নাগরিকত্ব বা ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

আরও পড়ুন: চোখ ধাঁধানো লাইট, ঝলমলে অনুষ্ঠান! মহালয়ায় ইডেনে আলোর খেলায় দেবী দুর্গার অসুরবধ

এদিকে ধ্রুবর নাগরিকত্ব নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা দাবি সামনে এসেছে। কিছু সূত্রের দাবি, তাঁর জার্মান নাগরিকত্ব রয়েছে। তবে এই তথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি কোন পাসপোর্টে ভারতে প্রবেশ করেছেন, কী ধরনের ভিসা বা অনুমতি নিয়ে রয়েছেন এবং সেই অনুমতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ রয়েছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্বের ব্যবস্থা নেই। তবে বিদেশে বসবাস, বিদেশি নাগরিকত্ব কিংবা ওভারসিজ সিটিজেন অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই) মর্যাদার বিষয়গুলি এক নয়। তাই ধ্রুবর ক্ষেত্রে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, তা জানতে তাঁর প্রকৃত নথি ও আইনি অবস্থান স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।

এই প্রেক্ষিতেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে চিঠি লিখেছেন বেঙ্গালুরুর প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার ভাস্কর রাও। ধ্রুবর ভারতে আসা, থাকার অনুমতি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তদন্তে যদি ১৯৪৬ সালের বিদেশি নাগরিক আইন, অভিবাসন বিধি, ভিসার শর্ত কিংবা ওসিআই-সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলে, তা হলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা উচিত। তবে কেবল রাজনৈতিক বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই কোনও আইন ভাঙা হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা জরুরি। ধ্রুব কোন অনুমতিতে ভারতে রয়েছেন, সেই তথ্য প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।

How did Dhruv Rathee join the movement in India despite holding German citizenship?

আরও পড়ুন: দিল্লির রাজপথে থামবে না বিক্ষোভ! জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে রবিবারেও আন্দোলন

১৯৯৪ সালে হরিয়ানার এক জাঠ পরিবারে জন্ম ধ্রুবর (Dhruv Rathee)। শৈশব ও বেড়ে ওঠা সেখানেই। পরে উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানিতে যান তিনি এবং সেখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পড়াশোনা করেন। বর্তমানে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভারতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে সিজেপি-র আন্দোলন, অন্যদিকে ধ্রুবকে আটক করার ঘটনা—দু’টিই রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে তাঁর ভিসা বা নাগরিকত্ব নিয়ে ওঠা অভিযোগ এখনও প্রমাণিত নয়। ফলে এই বিতর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্যের দিকেই নজর থাকবে।