বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ গত কয়েক সপ্তাহ খুব একটা ভালো কাটেনি লাল-হলুদ সমর্থকদের। প্রথমে আইএফএ শিল্ড ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হেরে ট্রফি হাতছাড়া করার ঘটনা বুক ভেঙেছিল সমর্থকদের। তারপর এসিএল টু-এর হোম ম্যাচে ইরাকের ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষ আল শর্তা-কে বাগে পেয়েও হারের মুখ দেখতে হয়েছিল আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের (Antonio Lopez Habas) দলকে। তাই আইএসএলের (ISL 2026-27) প্রথম ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) কেমন পারফরম্যান্স করে সেদিকে লক্ষ্য ছিল সকল সমর্থকদের।
আর সমর্থকদের স্বস্তি দিয়ে দ্বিতীয় সপ্তমীর বিকেলে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে বড় জয় পেলেন রশিদ, আনোয়াররা। গত ম্যাচে মুম্বাই সিটি এফসিকে টেক্কা দিয়ে নিজেদের অভিযান শুরু করেছিল বেশকিছুদিন পরে ভারতীয় ফুটবলের মুলস্রোতে ফেরা এই জনপ্রিয় গোয়ার ক্লাবটি। কিন্তু গতবারের চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলের সামনে যেন পাত্তাই পেলো দিমিত্রিস দিমিত্রাও-এর ছেলেরা।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল পেয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ২১ গজ দূর থেকে ড্যানি রামিরেজের ফ্রি-কিক দুর্দান্ত ভঙ্গিতে জালে জড়িয়ে যায়। প্রথমার্ধের শেষলগ্নে ডেভিডের সাজিয়ে দেওয়া পাস থেকে দলের দ্বিতীয় গোল করেন এডমুন্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৮৫ মিনিট নাগাদ পরিবর্ত হিসেবে নামা অভিজ্ঞ বিপিন সিং বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের অসাধারণ বাক খাওয়ানো শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন। সংযুক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে অধিনায়ক রশিদের সাজিয়ে দেওয়া বল থেকে নিঃস্বার্থভাবে জমি ঘেঁষা ক্রস রাখেন পিভি বিষ্ণু। নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল করে সমর্থকদের হাসি চওড়া করতে ভুল করেননি বিপিন।
আরও পড়ুন: কেন বিশ্বকাপ ফাইনাল হেরেছিল আর্জেন্টিনা? লিওনেল মেসির বিদায়ী বক্তব্যে ফাঁস হলো আসল রহস্য
তবে এদিন ইস্টবেঙ্গল আরও গোল করতে পারতো। এডমুন্ড, ডেভিডের পাশাপাশি পরিবর্ত হিসেবে নামা বিষ্ণু গোল করার সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। রামিরেজের একটি শট পোস্টে লাগে। অল্প সময়ের জন্য মাঠে নেমেও ইস্টবেঙ্গলের আইভরি কোস্টের স্ট্রাইকার একে লোবা ছিলেন বেশ সপ্রতিভ। তবে ইস্টবেঙ্গলের মূল নায়ক ছিলেন অধিনায়ক বাশিম রশিদ। প্যালেস্তাইনের এই মিডফিল্ডার আক্রমণ এবং রক্ষণ, দুই জায়গাতেই দলের প্রয়োজন অনুযায়ী অংশগ্রহণ করছেন। প্রকৃত অধিনায়কের মতোই দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: লক্ষ্য ১০০০ গোল! পর্তুগাল শিবির থেকে বেরিয়ে এসে ক্লাবের জার্সিতে টানা দুই ম্যাচে দুই গোল CR7-এর
তবে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্স এদিন গোল হজম না করলেও আনোয়ার-জিভুলিচ জুটি এখনও পুরোপুরি নিখুঁত নয়। সুযোগ পেয়েও দুই বার নিশ্চিত গোল তুলে নিতে ব্যর্থ হয় চার্চিল। চার্চিলের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার গুটিয়ারেজ তাদের লাল-হলুদ রক্ষণকে যথেষ্ট চাপে রেখেছিল। স্কোরলাইন যতটা অপমানজনক হয়ে উঠেছে, ততটা খারাপ খেলেনি গোয়ার ক্লাবটি। নিজেদের পরবর্তী আইএসএল ম্যাচে ইন্টার কাশীর মুখোমুখি হওয়ার আগে দলকে আরও নিখুঁত করে তোলার চেষ্টা করতে হবে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাসকে।














