বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দুর্গাপুজোয় (Durga Puja 2026) ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে যাতে আর কোনও দুর্ঘটনা না ঘটে, সেই জন্য নিরাপত্তা বাড়ানোর উপর জোর দিচ্ছে পুজো কমিটিগুলি। চোরবাগানের ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ভিড় সামলানো থেকে শুরু করে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুজোর বাকি দিনগুলিতে কীভাবে নিরাপত্তা বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নিল ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। মণ্ডপে সেলফি তোলা বন্ধ করা, ক্লাবের সদস্যদের নিজেদের পুজোয় দায়িত্ব পালন করা এবং জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখার মতো একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Durga Puja 2026 : মণ্ডপে সেলফি বন্ধ, প্রতিটি জোনে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা
রবিবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের বৈঠক হয়। সেখানে শহরের শতাধিক পুজো (Durga Puja 2026) কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পুজোর বাকি দিনগুলিতে নিরাপত্তা কীভাবে বজায় রাখা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
ফোরামের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি মণ্ডপের প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবক বা দায়িত্বে থাকা ক্লাবের সদস্যকে থাকতে হবে। মণ্ডপের ভিতরে যেমন ভিড় সামলাতে হবে, তেমনই রাস্তাতেও নজর রাখতে হবে। কোথাও বেশি ভিড় জমলে দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
ক্লাবের পরিচয়পত্র বা ব্যাচ পরে অন্য পাড়ায় ঠাকুর দেখতে যাওয়ার বদলে সদস্যদের নিজের এলাকার পুজোয় (Durga Puja 2026) থেকে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তার কাজে যাতে লোকের অভাব না হয়, সেই কারণেই এই সিদ্ধান্ত।
বৃষ্টির মধ্যেও যাতে স্বেচ্ছাসেবকেরা কাজ করতে পারেন, তার জন্য প্রতিটি ক্লাবকে ১০টি করে রেইনকোট রাখতে বলা হয়েছে। এই রেইনকোট কেনার খরচ দেবে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব। পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রতিটি ক্লাবে ওয়াকিটকি রাখার কথাও বলা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ করার জন্য এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়, তার জন্য প্রতিটি জোনে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে পুজো কমিটিগুলিকে সংশ্লিষ্ট জোনের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
এছাড়া, মণ্ডপের ভিতরে সেলফি তোলা বা ভিডিয়ো করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে বারবার এই নিয়মের কথা জানাতে হবে। ছবি বা ভিডিয়ো তুলতে গিয়ে যাতে ভিড়ের মধ্যে চলাচলে সমস্যা না হয়, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ।
রাস্তার নিরাপত্তা নিয়েও কড়া নির্দেশ দিয়েছে ফোরাম। কোনও পুজো কমিটি রাস্তার উপর গর্ত করতে পারবে না। কোথাও গর্ত থাকলে দ্রুত তা বুজিয়ে দিতে হবে। পুজো পরিচালনা, মানুষের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে ক্লাবগুলিকে। কোনও পুজো কমিটি রক্তদান শিবির করতে চাইলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছে ফোরাম।

আরও পড়ুনঃ চোরবাগানকাণ্ডের পরেই পুলিশের বড় পদক্ষেপ, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত এই রাস্তাগুলিতে জারি বিধিনিষেধ
আগামী ৭২ ঘণ্টা যাতে মানুষ নিরাপদে ঠাকুর (Durga Puja 2026) দেখতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই নির্দেশগুলি দেওয়া হয়েছে। সমস্ত পুজো কমিটিকে নিয়মগুলি মেনে চলার আবেদন জানিয়েছে ফোরাম ফর দুর্গোৎসব।














