Durga Puja 2026 Live Updates

প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলে ভারতের কাছে ৩৭০ কোটির বিদ্যুৎ বিক্রি নেপালের! বাংলাদেশেও শুরু সরবরাহ

Published on:

Published on:

Overcoming natural disasters, Nepal sold electricity worth 370 crore rs to India.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে নেপালে (Nepal)। বিপর্যয়ের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প (Hydropower Project), ব্যাহত হয়েছে পরিকাঠামো। তবুও বিদ্যুৎ রফতানি চালু রেখে ভারত (India) থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছে হিমালয়ের এই দেশ। নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ভারতে বিদ্যুৎ বিক্রি করে ৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি আয় করেছে নেপাল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ধাক্কা সামলেও বিদ্যুৎ রফতানি অব্যাহত রাখার এই পরিসংখ্যান নেপালের জলবিদ্যুৎ ক্ষেত্রের গুরুত্ব আরও একবার সামনে এনেছে। তবে উৎপাদন কেন্দ্রগুলির ক্ষয়ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চ্যালেঞ্জ এখনও যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।

প্রাকৃতিক বিপর্যয় সামলে ভারতের কাছে ৩৭০ কোটির বিদ্যুৎ বিক্রি করল নেপাল (Nepal):

এনইএ-র হিসাব অনুযায়ী, ওই এক মাসে নেপাল (Nepal) ভারতকে মোট ৬৩.৩৯৮৬ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে। এর বিনিময়ে আয় হয়েছে ৫.৯২৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন টাকা। রফতানি হওয়া বিদ্যুতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই সরবরাহ করা হয়েছে ভারত ও নেপালের মধ্যে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক বিদ্যুৎ বিক্রির চুক্তির আওতায়। আগস্টে আকস্মিক বন্যায় নেপালের একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও এই বাণিজ্য চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। বিদ্যুৎ রফতানি থেকে পাওয়া আয় নেপালের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভারতের বিদ্যুতের বাজারও নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এই আয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্পগুলির পুনরুদ্ধার এবং উৎপাদন ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

আরও পড়ুন: ভারতে নিলাম ৭৩৩ টি খনি! চালু মাত্র ১২৫ টি, কেন এমন পরিস্থিতি?

শুধু ভারত নয়, বাংলাদেশের সঙ্গেও বিদ্যুৎ বাণিজ্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে নেপাল। শুক্রবার ভারতের সঞ্চালন পরিকাঠামো ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানি ফের শুরু করেছে দেশটি। এর আগে নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে আকস্মিক বন্যায় ত্রিশুলি ও চিলিমে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। ওই দুই কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর অনুমোদন ছিল। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পর নির্ধারিত সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের উৎপাদন কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ফলে ভারতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের গুরুত্বও নতুন করে স্পষ্ট হয়েছে।

এনইএ-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অন্য কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠানোর অনুমতি দেওয়ার পরই রফতানি পুনরায় শুরু করা সম্ভব হয়েছে। অর্থাৎ, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলির উপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ তৈরি হয়েছে। নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা যথেষ্ট হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেই পরিকাঠামো বারবার বিপদের মুখে পড়ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর, যানবাহন, সড়ক ও সেতু। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও রফতানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করাও নেপাল সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

Overcoming natural disasters, Nepal sold electricity worth 370 crore rs to India.

আরও পড়ুন: এই দেশের রাজনীতিতে বড় পালাবদল! নির্বাচনে পড়ুয়াদের কাছে পরাজিত খোদ প্রেসিডেন্ট

গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছের উচ্চ হিমালয় অঞ্চলে তুষারধস ও অতিবৃষ্টির জেরে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা দেখা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর ও মধ্য নেপালের (Nepal) একাধিক শহর ও গ্রাম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই দুর্যোগে প্রায় ১,৪০০ জনের মৃত্যু এবং ৫,০০০-এরও বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে এই হতাহতের পরিসংখ্যানের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখানে নেই। বিপুল প্রাণহানি ও পরিকাঠামোগত ক্ষতির মধ্যেও বিদ্যুৎ রফতানি চালিয়ে যাওয়া নেপালের কাছে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলিকে আরও দুর্যোগ-সহনশীল করে তোলার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। একই সঙ্গে ভারত ও বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্য বজায় রাখতে বিকল্প উৎপাদন ব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য সঞ্চালন পরিকাঠামো গড়ে তোলাও জরুরি।