দীপাবলি-ছটপুজোয় কড়া নির্দেশ! নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দিল প্রশাসন

Published on:

Published on:

Nabanna sets specific guidelines for Diwali and Chhath puja
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : উৎসবের মরশুমে একের পর এক দুর্ঘটনা এড়াতে এবার বাজি ও ফানুসের ব্যবহার নিয়ে সতর্ক রাজ্য প্রশাসন। দীপাবলি, কালীপুজো কিংবা ছটপুজো—উৎসব যাই হোক, আনন্দের নামে যাতে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়, তার জন্য একাধিক নিয়মের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ।

দীপাবলি ছটপুজোয় নির্দেশিকা জারি নবান্নের (Nabanna)

আদালতের নির্দেশ অনুসারে, দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বাজি পোড়ানো যাবে। ছটপুজোর ক্ষেত্রে সেই সময় নির্ধারিত হয়েছে সকাল ৬টা থেকে ৮টা পর্যন্ত। বাজি বিক্রির জায়গা নির্বাচনেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বাজার না বসিয়ে ফাঁকা জায়গা বেছে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও বৃদ্ধাশ্রমের আশপাশেও কড়া বিধিনিষেধ থাকবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলির ১০০ মিটারের মধ্যে বাজি পোড়ানো যাবে না। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিকে সাইলেন্ট জোন হিসেবে বিবেচনা করে নীরবতা বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কোনও ব্যক্তি বিধি ভাঙলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন মেনে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধীনাথ গুপ্ত। বাজি নিয়ে অভিযোগ জানানোর জন্য একটি কন্ট্রোল রুমের নম্বরও শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। ফানুসের ক্ষেত্রে বিক্রি ও ব্যবহারের নিয়ম আলাদা করে বুঝিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। ফানুস বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। তবে তা ওড়ানোর আগে দমকল ও পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে।

চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে দুর্ঘটনার পর একাধিক উৎসবকে সামনে রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে খতিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার। কালীপুজো ও ছটপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে জানানো হয়েছে। উত্তর কলকাতার ঘিঞ্জি এলাকা ছাড়াও কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, পশ্চিম বর্ধমান এবং ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Nabanna sets specific guidelines for Diwali and Chhath puja

আরও পড়ুন : কলকাতা ও হলদিয়া বন্দর নিয়ে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! ড্রেজিংয়ের জন্য বরাদ্দ ৪৩০.৬৮ কোটি টাকা

পাশাপাশি চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এবং শান্তিপুরের রাস উৎসবকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। উৎসবের প্রস্তুতিতে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, তেমনই মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রশাসন। উৎসবের আনন্দ যাতে দুর্ঘটনা, শব্দদূষণ কিংবা আইনভঙ্গের কারণে ম্লান না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই নির্দেশগুলি সামনে আনা হয়েছে। প্রশাসনের নজরদারির পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণই উৎসবকে নিরাপদ করে তুলতে সাহায্য করবে।