বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের ফাইল আর নবান্নের দফতরে আটকে থাকলে চলবে না। প্রশাসনের কাজের ধরনে পরিবর্তন আনতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা দফতরগুলির সচিবদের নিয়মিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। প্রতি মাসে অন্তত একবার দিল্লি গিয়ে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। কাজের প্রয়োজন বুঝে সেই সফরের সংখ্যা মাসে দু’বারও হতে পারে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জট কাটাতে বড় নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
নবান্নের এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ধীরগতি। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, কিছু প্রকল্পে অর্থের সংস্থান নিয়ে সমস্যা রয়েছে, আবার কয়েকটির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না মেলায় পরবর্তী কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্ধারিত সময়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু কেন্দ্রের কাছে অভিযোগ জানিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না বলেই মনে করছে রাজ্য প্রশাসনের একাংশ।
নতুন নির্দেশে সচিবদের দায়িত্ব শুধু কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বা সাধারণ আলোচনা করা নয়। প্রতিটি বৈঠকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা, আটকে থাকা কাজ এবং প্রশাসনিক সমস্যার পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরতে হবে। কোন দফতরের অনুমোদন প্রয়োজন, কোথায় অর্থ ছাড়ের অপেক্ষা রয়েছে কিংবা কোন নিয়ম মেনে চলতে গিয়ে জট তৈরি হয়েছে—সব বিষয় নির্দিষ্টভাবে জানাতে হবে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের।
নবান্নের বার্তা, দফতরের কাজ শুধু চিঠি পাঠানো বা ই-মেল করার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করতে হবে। দিল্লিতে আলোচনা করলেই সচিবদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ কোনও আশ্বাস দিল কি না এবং বাস্তবে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে কি না, তার ধারাবাহিক খোঁজ রাখতে হবে। কোনও সমস্যা মিটে না গেলে পরবর্তী বৈঠকে সেটি আবার তুলতে হবে।

আরও পড়ুন : ইএম বাইপাসে জলাভূমি বুজিয়ে বহুতল নির্মাণ! প্রাক্তন মন্ত্রী জাভেদ খানের বিরুদ্ধে তদন্তে নামল বিশেষ কমিটি
রাজ্যের মতে, কেন্দ্রীয় স্তরে প্রয়োজনীয় অর্থ বা ছাড়পত্র পেতে দেরি হওয়ায় বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ বাধার মুখে পড়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে জট কাটানোর পথ খুঁজতে চাইছে নবান্ন। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, নতুন নির্দেশ কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দফতরগুলির সক্রিয়তা বাড়বে। কোনও কাজ আটকে থাকলে তার কারণ খুঁজে বের করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়াই হবে সচিবদের অন্যতম দায়িত্ব। এখন দেখার, মুখ্যমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর দিল্লি ও নবান্নের মধ্যে যোগাযোগ কতটা বাড়ে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির অগ্রগতিতে কতটা সহায়ক হয় এই সিদ্ধান্ত সেদিকেই নজর থাকবে।












