আধুনিক অস্ত্র, উন্নত প্রশিক্ষণেই বদলাচ্ছে ছবি! ৪৭ বছরে এই প্রথম CRPF-এ শূন্য প্রাণহানি

Published on:

Published on:

Zero fatalities in the CRPF for the first time in 47 years

বাংলা হান্ট ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে দেশের (India) বিভিন্ন প্রান্তে নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব সামলে আসছে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী বা সিআরপিএফ (CRPF)। মাওবাদী (Msoists) দমন থেকে শুরু করে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা অভিযানে সামনের সারিতে থেকেছে এই বাহিনী। এবার তাদের সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হল এক নতুন পালক। ৪৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম টানা এক বছরেরও বেশি সময় কোনও অভিযানে একজন জওয়ানকেও হারাতে হয়নি সিআরপিএফকে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের পর থেকে এখনও পর্যন্ত অভিযানে বাহিনীর কোনও সদস্যের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করা একটি বাহিনীর কাছে এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, মাওবাদী কার্যকলাপ কমে আসা এবং বাহিনীর প্রস্তুতি ও অভিযান পরিচালনার পদ্ধতিতে উন্নতির প্রতিফলন এই সাফল্যের মধ্যে দেখা যাচ্ছে।

৪৭ বছরে এই প্রথম CRPF-এ শূন্য প্রাণহানি:

সিআরপিএফের (CRPF) এই মাইলফলককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল জিপি সিং। সমাজমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, ১৯৭৯ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়া সময়পর্বের পর এই প্রথম টানা ১২ মাস কোনও অভিযানগত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। অর্থাৎ, দীর্ঘ কয়েক দশকের ইতিহাসে এমন নজির আগে দেখা যায়নি। জিপি সিংয়ের মতে, এই সাফল্য একদিনে আসেনি। এর পিছনে রয়েছে বাহিনীর ধারাবাহিক প্রস্তুতি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনার কৌশল। আগের তুলনায় উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম জওয়ানদের নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দক্ষতাও বেড়েছে। কোনও সদস্য আহত হলে তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পে ফের নতুন করে শুরু হচ্ছে আবেদন, দারুণ সুযোগ করে দিচ্ছে সরকার

তবে এই সাফল্যের গুরুত্ব বুঝতে গেলে দেশের মাওবাদী প্রভাবের অতীত পরিস্থিতির দিকে ফিরে তাকানো প্রয়োজন। একটা সময় ভারতের ১০০টিরও বেশি জেলা বামপন্থী উগ্রপন্থার প্রভাবে ছিল। এই এলাকাগুলির মধ্যে ছত্তিশগড়ের বস্তার ছিল মাওবাদীদের অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে প্রতিনিয়ত কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হত। মাওবাদীদের হামলা, অতর্কিত আক্রমণ এবং দুর্গম জঙ্গলে অভিযান চালানোর মতো পরিস্থিতি সামলাতে বিপুল সংখ্যক জওয়ান মোতায়েন রাখতে হত। সেই সময় মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাগুলিতে প্রায় ৫০ হাজার সিআরপিএফ সদস্য দায়িত্ব পালন করতেন। এর মধ্যে শুধু বস্তার অঞ্চলেই মোতায়েন ছিলেন প্রায় ৪০ হাজার জওয়ান। ফলে ওই এলাকায় বাহিনীর দায়িত্ব যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মাওবাদী কার্যকলাপে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদীদের সংগঠন ও প্রভাবও দুর্বল হয়েছে। অভিযানের সময় বহু মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন, অনেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের ঘোষণামতে, ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ ভারতকে মাওবাদী-মুক্ত ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছে। একসময় যে অঞ্চলগুলিতে অভিযান চালানো অত্যন্ত কঠিন ছিল, সেখানেও পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে। মাওবাদী প্রভাব কমে যাওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিআরপিএফের মোতায়েন ও দায়িত্ব এখনও অব্যাহত রয়েছে।

Zero fatalities in the CRPF for the first time in 47 years

আরও পড়ুন: চাঁদার নামে জুলুমবাজি অতীত! অভিযোগ জানাতে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু কলকাতা পুলিশের

জিপি সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতেও সিআরপিএফ (CRPF) দেশের প্রধান প্রধান অভিযানিক এলাকায় নিরন্তর দায়িত্ব পালন করে চলেছে। তাই টানা ১২ মাস কোনও অভিযানগত প্রাণহানি না হওয়াকে কেবল একটি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জওয়ানদের নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ এবং বাহিনীর সামগ্রিক কর্মদক্ষতা। আধুনিক সরঞ্জাম, উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা এবং সঠিক সময়ে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানেও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। বাহিনীর প্রধানের মতে, এই অর্জন প্রত্যেক সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার ফল। দেশের শান্তি এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্ব পালনে সিআরপিএফ ভবিষ্যতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘ ৪৭ বছরের ইতিহাসে এমন নজির তৈরি হওয়ায় বাহিনীর সদস্যদের মনোবল আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি প্রতিটি অভিযানে জওয়ানদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়াই এখন বাহিনীর অন্যতম লক্ষ্য।