বাংলাহান্ট ডেস্ক: সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে কড়া ভাষায় সতর্ক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) সীমান্ত। মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজৌরি জেলার নিয়ন্ত্রণরেখা বা লাইন অফ কন্ট্রোলের কাছে অন্তত দু’টি সন্দেহভাজন ড্রোন উড়তে দেখা যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয় ভারতীয় সেনা। ড্রোনগুলিকে নিষ্ক্রিয় করতে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে।
জম্মু-কাশ্মীরে (Jammu and Kashmir) তিন দিনের দ্বিতীয় বার ড্রোন হানা
এই ঘটনার তাৎপর্য আরও বেড়েছে কারণ, এর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই সেনাপ্রধান পাকিস্তানকে সীমান্তের ওপার থেকে প্ররোচনামূলক কার্যকলাপ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তাঁর সেই সতর্কবার্তার পরই ড্রোনের উপস্থিতি নতুন করে সীমান্ত উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ঘটনার পর গোটা এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে হাই অ্যালার্টে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিজেপির হয়ে কাজ করছেন ফোর্ট উইলিয়ামের কমান্ড্যান্ট! কেন এমন বিস্ফোরক দাবি মমতার?
সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজৌরির যেসব এলাকায় ড্রোন দেখা গিয়েছে, সেখানে আগেও একাধিকবার অনুপ্রবেশ ও পাচারের চেষ্টা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে তল্লাশি অভিযান চলছে। স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে যাতে কোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনা প্রথমবার নয়। গত রবিবার সাম্বা, রাজৌরি এবং পুঞ্চ জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর অন্তত পাঁচটি ড্রোনের গতিবিধি নজরে এসেছিল। রাজৌরি জেলার নওশেরা সেক্টরের গানিয়া-কালসিয়ান গ্রামে ড্রোন দেখা মাত্রই ভারতীয় সেনা গুলিবর্ষণ শুরু করে। ওই ড্রোনগুলি কিছুক্ষণ ভারতীয় আকাশসীমায় চক্কর কাটার পর পাকিস্তানের দিকে ফিরে যায় বলে জানানো হয়।

আরও পড়ুন: চিনের বাড়ল চিন্তা! এই সেক্টরে ইতিহাস গড়ল ভারত, রফতানি ছাড়াল ৪ লক্ষ কোটির গণ্ডি
মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দু’বার এই ধরনের ড্রোন তৎপরতায় নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বেড়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের অনুমান, সীমান্তে বড়সড় নাশকতার ছক কষা হতে পারে। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারির পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র বা গোলাবারুদ পাচারের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই প্রেক্ষিতে সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার পাশাপাশি ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দিচ্ছে ভারতীয় সেনা।












