বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত ও রাশিয়ার (India-Russia) মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হল। ‘রেসিপ্রোকল এক্সচেঞ্জ অফ লজিস্টিক সাপোর্ট’ (RELOS) চুক্তি কার্যকর হওয়ার ফলে এবার একে অপরের দেশে সামরিক ঘাঁটি গড়ার সুযোগ পাবে দুই দেশ। এই চুক্তির আওতায় ভারত ও রাশিয়া পরস্পরের ভূখণ্ডে সর্বাধিক ৩০০০ সেনা মোতায়েন করতে পারবে। পাশাপাশি ৫টি রণতরী এবং ১০টি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুমতিও থাকছে, যা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভারত-রাশিয়ার (India-Russia) মধ্যে কার্যকর বিরাট প্রতিরক্ষা চুক্তি:
এই চুক্তির মাধ্যমে শুধু সেনা মোতায়েন নয়, বরং একে অপরের সামরিক পরিকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বড় ছাড় মিলছে। ভারত ও রাশিয়া পরস্পরের বিমানঘাঁটি, বন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করতে পারবে। এর ফলে যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সমন্বয় সাধন করা অনেকটাই সহজ হবে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের চুক্তি দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও কৌশলগত সমন্বয় আরও বাড়াবে।
আরও পড়ুন: ছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট! ৫ বারের চেষ্টায় UPSC-তে ৩৭ তম স্থান অর্জন করে নজির সাক্ষীর
RELOS চুক্তিতে লজিস্টিক সহায়তার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি, জল, রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামতি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা—সব ক্ষেত্রেই একে অপরকে সাহায্য করবে দুই দেশ। এমনকি আকাশপথে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল ও বিমান পরিষেবা সংক্রান্ত সহযোগিতাও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। ফলে সামরিক অভিযান ছাড়াও মানবিক সহায়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উদ্ধারকার্যেও এই চুক্তি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।
ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক আজকের নয়। বহু চড়াই উৎরাইয়ে এক অপরের পাশে থেকেচে এই দুই দেশ। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে রাশিয়ার সমর্থন ভারতের কৌশলগত ইতিহাসে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই ২০২৫ সালে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। আপাতত পাঁচ বছরের জন্য এই চুক্তি কার্যকর থাকবে এবং পরবর্তীতে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে এর মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: ভোটের আগে বড় নির্দেশ! নোটিস ছাড়া বাদ যাবে না একটিও নাম, স্পষ্ট জানাল ট্রাইব্যুনাল
তবে দুই দেশের (India-Russia) তরফেই স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির উদ্দেশ্য কোনও যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা নয়। বরং যৌথ প্রশিক্ষণ, সামরিক মহড়া এবং লজিস্টিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করাই এর মূল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক কূটনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিশ্লেষকরা, যা ভবিষ্যতে ভারত ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।












