সিমেন্ট-তামার পর এবার অ্যালুমিনিয়াম সেক্টরে এন্ট্রি আদানির! এই পড়শি রাজ্যে ১.১ লক্ষ কোটির বিনিয়োগ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অত্যন্ত দাপটের সঙ্গে নিজের উপস্থিতি প্রসারিত করছেন ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি। ঠিক এই আবহেই এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়ে, সিমেন্ট ও তামার ব্যবসায় প্রবেশের পর আদানি গ্রুপ (Adani Group) এখন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাতু অ্যালুমিনিয়াম সেক্টরে প্রবেশ করছে। এই লক্ষ্যে, সংস্থাটি আবুধাবির ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানি (IHC)-র সঙ্গে একটি ৫০:৫০ জয়েন্ট ভেঞ্চার গঠন করেছে। এই অংশীদারিত্বের আওতায় ওড়িশায় (Odisha) প্রায় ১.১ লক্ষ কোটি টাকা (১১.৫ বিলিয়ন ডলার) বিশাল বিনিয়োগ করা হবে। যা ভারতের (India) মেটাল সেক্টরের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম বিনিয়োগ হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে।

অ্যালুমিনিয়াম সেক্টরে এন্ট্রি আদানির (Adani Group):

২ টি প্রধান কোম্পানির আধিপত্যে থাকা বাজারে এক নতুন প্রতিযোগী: জানিয়ে রাখি যে, ভারতের অ্যালুমিনিয়াম বাজার দীর্ঘদিন ধরে কেবল ২ টি বৃহৎ কোম্পানি হিন্দালকো এবং বেদান্তের দখলে ছিল। দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই এই ২ টি কোম্পানির দখলে রয়েছে। মূলত, এই সেক্টরে একটি নতুন কোম্পানি হিসাবে প্রবেশ করা কঠিন। কারণ এর জন্য খনি থেকে শুরু করে শোধনাগার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সাপ্লাই চেনের এক বিশাল নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। তবে, আদানির নতুন প্রকল্পটি হবে সম্পূর্ণ ইন্টিগ্রেটেড। ওড়িশায় তৈরি হতে চলা এই প্ল্যান্টটিতে বার্ষিক ৪০ লক্ষ টন ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যালুমিনা শোধনাগার, ২০ লক্ষ টন ক্ষমতাসম্পন্ন অ্যালুমিনিয়াম মেল্টার এবং ৪,০০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে। এছাড়াও, ১০ লক্ষ টন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ডাউনস্ট্রিম ম্যানুফ্যাকচারিং পার্কও নির্মাণ করা হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারত আনুমানিক ৪২ লক্ষ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করেছে। এমতাবস্থায়, আদানির নতুন ২০ লক্ষ টন ক্ষমতাসম্পন্ন মেল্টার দেশের মোট উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

Adani Group enters aluminum sector, makes huge investments.

এই বিপুল বিনিয়োগের নেপথ্যে আসল কারণ: এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে যে, এই সময়ে আদানি গ্রুপ কেন অ্যালুমিনিয়ামকে বেছে নিল? মূলত, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক হওয়া সত্ত্বেও, ভারত এখনও তার চাহিদা মেটাতে এই ধাতু আমদানি করে। সরকারের ভিশন ডকুমেন্ট অনুসারে, ২০২৫ অর্থবর্ষে দেশের অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার ৫.৫ মিলিয়ন টন হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৮.৫ মিলিয়ন টনে পৌঁছতে পারে। ২০৪৭ সাল নাগাদ এটি ২৮ মিলিয়ন টনে পৌঁছবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী মাথাপিছু ব্যবহার ৮ থেকে ১২ কেজির মধ্যে রয়েছে বলে অনুমান করা হয়।যেখানে ভারতে এটি মাত্র ৩.৪ থেকে ৩.৯ কেজি। এটি পরিষ্কারভাবে ইঙ্গিত দেয় যে ভবিষ্যতে যানবাহন, বৈদ্যুতিক তার, নির্মাণ এবং গৃহস্থালীর সামগ্রী থেকে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা দ্রুত বাড়বে। এদিকে, করণ আদানির মতে, কোম্পানির লক্ষ্য কারও বাজার অংশ দখল করা নয়, বরং ভবিষ্যতের এই বিপুল চাহিদা মেটানো।

আরও পড়ুন: বিশ্বের সবথেকে বড় মুসলিম অধ্যুষিত দেশে ১,০০০ বছরের পুরনো শিব মন্দির! এবার সংস্কার করবে ভারত

কেন নির্বাচন করা হল ওড়িশাকে: এই মেগা প্রকল্পের জন্য ওড়িশাকে বেছে নেওয়া একটি সুচিন্তিত কৌশলের অংশ। ভারতের অর্ধেকেরও বেশি বক্সাইট (অ্যালুমিনিয়াম তৈরির কাঁচামাল) ওড়িশায় পাওয়া যায়। নতুন রিফাইনারি প্ল্যান্টটি রায়গড়া জেলার খনিগুলির কাছে অবস্থিত হবে। আর মেল্টিং সুন্দরগড়ে তৈরি করা হবে। কাঁচামাল আসবে বল্লাদা, কুত্রুমালি এবং আরও কয়েকটি খনি থেকে। এছাড়াও, আদানি গ্রুপের মালিকানাধীন ধামরা বন্দরটি পণ্য পরিবহণের জন্য ব্যবহার করা হবে। ১ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনে প্রায় ৮ টন কাঁচামাল পরিবহণের প্রয়োজন হয়। যার জন্য রেলপথ এবং কনভেয়র বেল্টের একটি বিশেষ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ২৫ শতাংশের পরিবর্তে বেশি সংখ্যক অগ্নিবীরকে স্থায়ী বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় সেনা! নিয়ম বদল করবে কেন্দ্র?

সস্তা বিদ্যুৎ সবচেয়ে বড় সুবিধা এনে দেবে: উল্লেখ্য যে, অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনের সবচেয়ে বড় খরচ হল বিদ্যুৎ। এই পুরো শিল্পটিই শক্তির ওপর নির্ভরশীল। এখানেই আদানি গ্রুপ সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে। ভারতে এই কোম্পানির ইতিমধ্যেই একটি বড় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পোর্টফোলিও রয়েছে। এই নতুন প্রকল্পে একটি ৪ গিগাওয়াটের নিজস্ব বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি ৪০০ মেগাওয়াটের গ্রিন এনার্জি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সাশ্রয়ী মূল্যের শক্তি এই বাজারে আদানি গ্রুপকে তার সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দেবে। এছাড়াও, আদানি গ্রুপের নিজস্ব বন্দর, ডেটা সেন্টার এবং পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিতে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যা গ্রুপের অভ্যন্তরে এই পণ্যগুলোর সহজ ব্যবহার নিশ্চিত করবে।