বারুইপুরে রাজনীতি করতে চাইছেন মমতা? ‘হাউস অ্যারেস্ট’ প্রসঙ্গ তুলে বিস্ফোরক অগ্নিমিত্রা

Published on:

Published on:

Agnimitra Paul talks about Mamata's 'house arrest' issue
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বারুইপুরের নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের অভিযোগের পাল্টা সরব হল রাজ্য সরকার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)। তাঁর অভিযোগ, পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

বারুইপুর ঘটনা নিয়ে মমতাকে দুষলেন অগ্নিমিত্রা (Agnimitra Paul)

বারুইপুরের নাবালিকা মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন। পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর ও সোনারপুর—এই তিনটি থানা এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর করা হয়েছে। ওই নির্দেশ বলবৎ থাকাকালীন পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় মমতা-ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ তোলে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। সেই দাবিকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল উল্টে প্রশ্ন তোলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন হাউস অ্যারেস্ট করা হবে না? তাঁর আরও অভিযোগ, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছেন।

মহিলাদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল সরকারের ১৫ বছরের শাসনকালকেও কাঠগড়ায় তোলেন অগ্নিমিত্রা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছরে প্রতিদিন প্রতি মিনিটে যখন মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়েছিল, তখন উনি উন্নাওতে ওঁর টিম পাঠিয়েছিলেন। উনি মণিপুরে পাঠিয়েছিলেন। আমাদের বাংলার গ্রামে গ্রামে লোক পাঠাননি। লোক পাঠানো তো দূরের কথা, ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।”

Agnimitra Paul talks about Mamata's 'house arrest' issue

আরও পড়ুন :শ্যামাপ্রসাদের স্কুলে মুখ্যমন্ত্রীর বড় বার্তা, মিত্র ইনস্টিটিউশনের হাল ফেরাতে ২৫ লক্ষ টাকা

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার দাবি, বারুইপুরে যাওয়ার পিছনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সেই অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, “আজ আপনি যাবেন ওখানে রাজনীতি করতে? আর আমরা সেটার অনুমতি দেব? আপনি সেখানে গিয়ে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করবেন? যেমন গত ১৫ বছর করেছেন? বিভাজনের রাজনীতি করেছেন। সেদিনও আপনি যাননি, আজও আপনি যাবেন না। সেদিনও আমরা গিয়েছিলাম, আজও আমরা যাব।” বারুইপুরের ঘটনাকে ঘিরে একদিকে রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশাসনও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থান নিয়েছে। ফলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দুই ক্ষেত্রেই নজর এখন বারুইপুরের পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে।