বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের একাধিক মেট্রো শহরে ক্রমবর্ধমান যানজটের সমস্যা মোকাবিলায় অভিনব পরিকল্পনার কথা সামনে আনল সিভিল অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি । সম্প্রতি এয়ার ট্যাক্সি পরিষেবা (Air Taxi) চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের সাময়িকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। এই সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় সিভিল অ্যাভিয়েশন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু, যেখানে দিল্লি-এনসিআরকে কেন্দ্র করে পাইলট প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
ভারতের মেট্রো সিটিতে যানজটের সমস্যা এড়াতে আসছে এয়ার ট্যাক্সি (Air Taxi)
রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে গুরুগ্রাম, কনট প্লেস এবং নয়ডার জেওয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে বিশেষ এয়ার করিডোর তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। এই করিডোর চালু হলে বর্তমানে যে পথ পেরোতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে, তা কয়েক মিনিটেই অতিক্রম করা সম্ভব হবে। প্রস্তাবিত এয়ার ট্যাক্সিগুলি মূলত হাসপাতাল, বাণিজ্যিক ভবন বা গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ছাদে তৈরি হেলিপ্যাডে ওঠানামা করবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: চলতি মাসেই লঞ্চ হতে চলেছে Apple-এর সবথেকে সস্তার iPhone! সামনে এল দিনক্ষণ
শুরুতে এই পরিষেবার ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখা হবে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার জন্য। গুরুতর অসুস্থ রোগী পরিবহণ, অঙ্গ প্রতিস্থাপন সংক্রান্ত জরুরি যাতায়াত কিংবা দ্রুত চিকিৎসক পৌঁছে দেওয়ার মতো কাজে এয়ার ট্যাক্সি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শহরের রাস্তায় তীব্র যানজটের কারণে যে সময় ও জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি হয়, তা অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে এই ব্যবস্থায়।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই এয়ার ট্যাক্সিগুলি চলবে ইলেকট্রিক ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং বা eVTOL প্রযুক্তিতে। ফলে শব্দদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ তুলনামূলকভাবে কম হবে বলে দাবি করা হয়েছে। এই নতুন পরিষেবার নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য DGCA-র অধীনে একটি পৃথক নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে, যাতে উড়ান নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন: আজকের রাশিফল ১০ ফেব্রুয়ারি, পারিবারিক জীবনে সুখের জোয়ার এই চার রাশির
দিল্লি, মুম্বইয়ের মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে আলাদা জমি পাওয়া কঠিন হওয়ায় বহুতল ভবনের ছাদ ব্যবহারের দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, আইটি পার্ক ও আবাসিক টাওয়ারের ছাদে ভার্টিপোর্ট বা হেলিপ্যাড তৈরির মাধ্যমে খরচ কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি এই প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যাঙ্কগুলিকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে CII। বিশেষ পরিকাঠামো তহবিল বা সরকারি অনুদানের ব্যবস্থাও করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতের শহুরে যাতায়াত ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে যেতে পারে।












