বাংলাহান্ট ডেস্ক: অগ্নিগর্ভ মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা খামেনেই (Ali Khamenei)। আগেই এই নিয়ে বিবৃতি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। প্রথমে ট্রাম্পের এই দাবিকে অস্বীকার করলেও পরে তা নিশ্চিত করে তেহরান। সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, এই হামলায় তাঁর আত্মীয় পরিজনদেরও মৃত্যু হয়েছে। দেশ জুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর আক্রমণকে ‘কাপুরুষোচিত’ আখ্যা দিয়ে ইরান কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছে।
আমেরিকা-ইজরায়েলের হানায় নিহত খামেনেই (Ali Khamenei)
এদিন আগে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, অভিযানে খামেনেই নিহত হয়েছেন। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে একই দাবি করেন। যদিও প্রথমে তেহরান জানায়, তাদের নেতা নিরাপদেই রয়েছেন। শনিবার গভীর রাতে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁর বাহিনী নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পেয়েছে এবং খামেনেইয়ের বাসস্থান সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ইরানের সরকারিভাবে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
আরও পড়ুন: মার্চের শুরুতেই কমল হলুদ ধাতুর দর! জানুন সপ্তাহান্তে বাজারে সোনার দাম কত?
শনিবার সকাল থেকেই ইজ়রায়েলি হামলা শুরু হয় ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে তেহরান-সহ একাধিক বড় শহর কেঁপে ওঠে। ইজরায়েলের দাবি, অভিযানের লক্ষ্য ছিলেন খামেনেই ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ওয়াশিংটন এই অভিযানে তেল আভিভকে সমর্থন জানিয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও ইসলামিক গার্ড কর্পস শোকবার্তায় খামেনেইকে ‘অনন্য নেতা’ বলে উল্লেখ করেছে এবং তাঁর আদর্শ রক্ষার অঙ্গীকার করেছে।
অন্যদিকে ট্রাম্প খামেনেইকে “ইতিহাসের অন্যতম কুখ্যাত ব্যক্তি” বলে উল্লেখ করেন।তাঁর দাবি, খামেনেইয়ের শাসনের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন তাঁঁর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁদের প্রতি ন্যায়বিচারই হয়েছে । ইরানের জনগণের উদ্দেশে তিনি নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার আহ্বান জানান এবং প্রবাসীদের দেশে ফেরার বার্তা দেন। পাশাপাশি, খামেনেই-বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সেনাবাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও তোলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অন্তত আরও এক সপ্তাহ ইরানে বোমাবর্ষণ চলবে—যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

আরও পড়ুন:পার্থ কর্মকারের হাতে উঠল শীর্ষপদ! উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে বড়সড় রদবদল
এদিকে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। শুধু ইজ়রায়েল নয়, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকেও লক্ষ্য করে চলছে লাগাতার বোমাবর্ষণ। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির দুবাই ও আবু ধাবি, কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবের রিয়াধে হামলার দাবি উঠেছে। বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফা সাময়িকভাবে খালি করা হয়। ইরান নিজের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিমান চলাচল ব্যাহত। সর্বত্র সাইরেন, অনিশ্চয়তা আর যুদ্ধের আবহ। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরানের আক্রমণ আরও তীব্র হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
















