বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানকে (Pakistan) বিশেষ স্বার্থে ব্যবহার করে পরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে আমেরিকা— এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। আর তা তিনি করেছেন খোদ পাকিস্তানের পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে। তাঁর কথায়, ইসলামাবাদকে ওয়াশিংটন ব্যবহার করেছে “টয়লেট পেপারের মতো”— কাজ শেষ হলে যার আর কোনও প্রয়োজন থাকে না। পাক মন্ত্রীর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
পাকিস্তানের (Pakistan) সঙ্গে ‘টয়লেট পেপার’-এর মত আচরণের অভিযোগ আমেরিকার বিরুদ্ধে:
পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাজা আসিফ বলেন, ১৯৯৯ সালের পর বিশেষ করে আফগানিস্তান ইস্যুতে আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে ওয়াশিংটনের প্রধান মিত্র হিসেবে সামনে আসে ইসলামাবাদ। কিন্তু তাঁর দাবি, এই ঘনিষ্ঠতার ফল পাকিস্তানের পক্ষে ইতিবাচক হয়নি। বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে— নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে।
খাজার মতে, এতদিন ধরে পাকিস্তান যে যুক্তি দিয়ে এসেছে— ইসলাম রক্ষার লড়াই বা জেহাদের প্রশ্নে আফগানিস্তানে ভূমিকা— তা বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, জেহাদের নামে যে সংঘাত চলেছে, তা ছিল ভ্রান্ত ও ধ্বংসাত্মক। আটের দশকে আফগানিস্তানে সোভিয়েত বিরোধী লড়াইকে ধর্মীয় যুদ্ধ হিসেবে দেখানো হলেও, আসলে তার পেছনে ছিল বৃহৎ শক্তির কূটনৈতিক স্বার্থ। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়া এমন কোনও পদক্ষেপ নেয়নি যার জেরে ধর্মীয় যুদ্ধ ঘোষণার যৌক্তিকতা তৈরি হয়।
একই সঙ্গে তিনি পাকিস্তানের প্রাক্তন সামরিক শাসক জিয়া-উল-হক ও পারভেজ মুশারফের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন। খাজার দাবি, ৯/১১-র পর আমেরিকার পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে। তালিবানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অংশ নিলেও, পরবর্তীতে মৌলবাদ, সন্ত্রাস এবং অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত পাকিস্তানকে যথেষ্ট সহায়তা দেয়নি ওয়াশিংটন। তাঁর কথায়, “আমরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি, তা কখনও পূরণ হবে না।”

আরও পড়ুন: রাতারাতি হুড়মুড়িয়ে পড়ল সোনার দাম! আজ ২২ ও ২৪ ক্যারাট কিনতে কত খরচা হবে জানুন
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হওয়ার আভাস মিললেও, পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্য দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষ করে, ওয়াশিংটন এই মন্তব্যের কী প্রতিক্রিয়া জানায়, তা এখন কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈদেশিক নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশের ক্ষেত্রেও এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।












