জলে গেল ২০০ মিলিয়ন ডলার? হরমুজ প্রণালীর ওপর গায়েব আমেরিকার সবথেকে দামি ড্রোন

Published on:

Published on:

America's Most Expensive Drone Vanishes Over the Strait of Hormuz.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীর (Strait of Hormuz) আকাশে রহস্য! নজরদারি চালানোর সময় আচমকাই নিখোঁজ হয়ে গেল মার্কিন নৌসেনার অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন MQ-4C Triton। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই ড্রোনের প্রতিটির নির্মাণ খরচই প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার। এত উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ড্রোন হঠাৎ করে কীভাবে গায়েব হয়ে সেই নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে এবং এই নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

হরমুজ প্রণালীর (Strait of Harmuz) ওপর গায়েব আমেরিকার সবথেকে দামি ড্রোন:

জানা যাচ্ছে, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ় প্রণালীর উপর টানা প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি চালানোর পর ইতালির সিগোনেলা নৌসেনা ঘাঁটির উদ্দেশ্যে ফিরছিল। কিন্তু ঘাঁটিতে পৌঁছনোর আগেই সেটি আচমকা রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। এই ড্রোন মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত নজরদারির জন্য মোতায়েন ছিল।

আরও পড়ুন: দোকানের মতো ফুলে ওঠা হিং কচুরি বানাতে চান? জেনে নিন পারফেক্ট রেসিপি

ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থা ফ্লাইট রাডার ২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগেই ড্রোনটি সামান্য ইরানের দিকেও মোড় নিয়েছিল। সেই সময়ই ড্রোন থেকে ‘৭৭০০’ কোড পাঠানো হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে জরুরি পরিস্থিতির সংকেত হিসেবে পরিচিত। এর পর সেটি নিচে নামতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। হরমুজ় প্রণালীর আকাশেই শেষবার সেটির অবস্থান ধরা পড়ে।

ড্রোনটির সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এটি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ভেঙে পড়েছে, না কি শত্রুপক্ষের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে, দুই সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানের কাছাকাছি অঞ্চলে ড্রোনটির গতিবিধি এবং হঠাৎ সংকেত পাঠানো ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

America's Most Expensive Drone Vanishes Over the Strait of Hormuz

আরও পড়ুন: রাজ্যসভায় শপথ নিলেন নীতীশ কুমার! কে হবেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী?

প্রসঙ্গত, এই ঘটনার মাত্র কয়েকদিন আগেই ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে এবং পাকিস্তানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর (Strait of Harmuz) উপর থেকে এই ড্রোন নিখোঁজের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এবং টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় আকাশে থাকতে পারা এই ড্রোনটি উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত, ফলে এর হঠাৎ অন্তর্ধানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।