বাংলা হান্ট ডেস্ক: বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও জেডিইউ প্রধান নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) শুক্রবার রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন। নয়াদিল্লির সংসদ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিহারের দুই উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহা এবং সম্রাট চৌধুরী সহ একাধিক শীর্ষ নেতারা।
রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন নীতীশ কুমার (Nitish Kumar):
রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন নীতীশ কুমার, এবং রাজ্যসভায় প্রবেশের মাধ্যমে সেই ‘সাধপূরণের’ পথ প্রশস্ত হল বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ৩০ মার্চই তিনি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং এরপরই রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন।
আরও পড়ুন: ‘মেগা প্রতিশ্রুতি’! DA থেকে ফ্রি যাতায়াত, বিজেপির ইস্তাহারে চমকের তালিকার আর কী কী?
এর আগে মার্চ মাসেই রাজ্যসভায় নির্বাচিত হন নীতীশ কুমার। নির্বাচনের পর তিনি বিহার বিধান পরিষদের সদস্যপদ থেকেও ইস্তফা দেন। সংবিধান অনুযায়ী রাজ্যসভার সদস্য হয়েও ছয় মাস পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা সম্ভব হলেও, জেডিইউ সূত্রে জানা গিয়েছে তিনি খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণভাবে পদত্যাগ করে নতুন সরকার গঠনের রাস্তা পরিষ্কার করবেন। পাটনায় ফিরে এসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন বলেও জানা যাচ্ছে।
নীতীশ কুমারের এই পদক্ষেপের ফলে বিহারের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। এনডিএ জোটের ভিতরে এখন নতুন মুখ্যমন্ত্রী বেছে নেওয়ার আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবার প্রথমবারের মতো বিজেপির নেতৃত্বে বিহারে একজন মুখ্যমন্ত্রী আসতে পারেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসায় সেই সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভোটার কার্ড পেতে আর দেরি নয়, অনলাইনে এভাবে ডাউনলোড করুন মাত্র ৫ মিনিটে
৭৫ বছর বয়সী নীতীশ কুমার (Nitish Kumar) প্রায় দুই দশক ধরে বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। ২০০৫ সাল থেকে একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি ‘সুশাসন বাবু’ নামে পরিচিতি পেয়েছেন। উন্নয়নমূলক কাজের জন্য যেমন প্রশংসা পেয়েছেন, তেমনই বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের কারণে সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। তাঁর রাজ্যসভায় প্রবেশকে অনেকেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন, যেখানে তিনি জাতীয় স্তরে বিহারের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।












