বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের জেরে তীব্র চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি গোটা বিশ্বজুড়েই প্রভাব ফেলছে। এরই মাঝে মঙ্গলবার আমেরিকার প্রেসিডেন্টের নম্বর থেকে হঠাৎই ফোন এলো প্রধানমন্ত্রী মোদির (Narendra Modi) কাছে। মোদি ও ট্রাম্পের এই ফোনালাপের আলোচ্য বিষয়ই ছিল পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাত, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখা-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আরে ফোনালাপ এর কথা জানিয়েছেন ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর।
মোদীর (Narendra Modi) বিদেশ নীতির কাছে ঝুঁকলেন ট্রাম্প!
এদিন ট্রাম্প যে ফোন করেন সেই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজেও প্রকাশ্যে আনেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সোমবারই ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক আলোচনা’-র কথা ঘোষণা করে পাঁচ দিনের সংঘর্ষবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর তার পরের দিন অর্থাৎ মঙ্গলবারই প্রান্ত মোদী এই কথোপকথন কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলের বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: সাপ্লিমেন্টারি লিস্টেও নেই নাম, ভোটার তালিকা থেকেই বাদ! এবার কী করণীয়?
প্রতিবারের মতো ভারত এই পরিস্থিতিতেও একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান বজায় রেখে চলেছে প্রথম থেকেই। একদিকে আমেরিকা, অন্যদিকে ইরান—এই দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাত চললেও ভারত কিন্তু উভয় পক্ষের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। সেই কারণে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভারতের নাম উঠে আসছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত যদি তৃতীয় পক্ষ হিসেবে ভূমিকা নেয় তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমস এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত থামাতে মধ্যস্থতায় আগ্রহ দেখাচ্ছে পাকিস্তানও। এই প্রেক্ষাপটে মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উল্লেখ্য, সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে সরাসরি কথা হল, যা পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন: ফের কালবৈশাখীর ইঙ্গিত! সপ্তাহান্তে কলকাতা ও জেলাজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা, আগামীকালের আবহাওয়ার খবর
সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার পর আপাতত পাঁচ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি পরিকাঠামো হামলা স্থগিত রাখা হবে। তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক আলোচনার ফল। যদিও তেহরান এই পদক্ষেপকে নিজেদের চাপের ফল বলেই দাবি করেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে, এই সংঘর্ষবিরতি কি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথে প্রথম ধাপ, নাকি সাময়িক বিরতি? গোটা বিশ্বই এখন তাকিয়ে রয়েছে পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকে (Narendra Modi)।












