এটিএফের মূল্যবৃদ্ধিতে সংকট, এয়ারলাইন্স বাঁচাতে জরুরি ঋণ প্রকল্পে বড় ঘোষণা মোদী সরকারের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানির (Jet Fuel Price) বাজারে অস্থিরতা বাড়তেই দেশের বিমান পরিবহন শিল্প গভীর সংকটে পড়েছে। এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (এটিএফ)-এর লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি বিমানসংস্থাগুলির খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে পরিষেবার উপর। এই প্রেক্ষাপটে বিমানসংস্থাগুলিকে স্বস্তি দিতে ৫০০০ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

জ্বালানি (Jet Fuel Price) মূল্যবৃদ্ধির আবহে বিমানসংস্থাগুলিকে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা কেন্দ্রের

বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, এমারজেন্সি ক্রেডিট লাইন গ্যারান্টি স্কিম (ইসিএলজিএস) ৫.০-এর আওতায় বিমানসংস্থাগুলিকে ঋণের মাধ্যমে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক উড়ানপথে আকাশসীমা বন্ধ থাকা, রুট পরিবর্তন এবং উড়ানের সংখ্যা কমে যাওয়ার ফলে সংস্থাগুলির আয় কমেছে, অন্যদিকে ব্যয় বেড়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইরানকে সরাসরি হুমকি! মার্কিন সেনার বিশেষ অভিযান ঘিরে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা জোরদার

এই প্রকল্পের অধীনে একটি বিমানসংস্থাকে সর্বোচ্চ ১০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমপরিমাণ নিজস্ব বিনিয়োগের শর্তে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ বছর, যার মধ্যে প্রথম ২ বছরের মধ্যে মূল দেনা পরিশোধের সুযোগ থাকবে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ জ্বালানি খরচজনিত চাপ কিছুটা লাঘব করবে এবং পরিষেবা সচল রাখতে সাহায্য করবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানসংস্থাগুলিকে আর্থিকভাবে সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল। ইসিএলজিএস ৫.০ প্রকল্পের মাধ্যমে সেই প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে শুধু সংস্থাগুলিই নয়, যাত্রী পরিষেবাও স্থিতিশীল থাকবে।

Amidst rising Jet fuel prices, the central govt announces financial help for airlines.

আরও পড়ুন: তামিলনাড়ুতে ‘থলাপতি’ ম্যাজিক, কংগ্রেসের সমর্থনে সরকার গঠনের পথে TVK

উল্লেখ্য, এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো ও স্পাইসজেট সহ একাধিক বিমানসংস্থার সংগঠন কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে পরিস্থিতির গুরুতর দিক তুলে ধরেছিল। তাদের দাবি ছিল, এটিএফের দাম বেড়ে প্রতি কিলোলিটারে ২ লক্ষ টাকার গণ্ডি ছাড়িয়ে যাওয়ায় অনেক রুট কম লাভজনক হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে অশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধিই এই পরিস্থিতির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রের এই আর্থিক সহায়তা বিমান পরিবহন শিল্পে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা (Jet Fuel Price)।