বাংলা হান্ট ডেস্ক: লন্ডন মহোৎসবের তৃতীয় সংস্করণের দুরন্ত সাফল্যের পর ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন ইউকে একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। মূলত, ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন ইউকে তাদের এই বিশেষ সাংস্কৃতিক উৎসবটি ‘আমস্টারডাম মহোৎসব ২০২৬’ (Amsterdam Mahotsav 2026)-এর প্রথম সংস্করণের মাধ্যমে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসতে চলেছে। নেদারল্যান্ডসের (Netherlands) এই বৃহত্তম ভারতীয়-বাঙালি সাংস্কৃতিক উৎসবটির কলকাতায় একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, এই উৎসবটি চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালের ২৮ ও ২৯ নভেম্বর আমস্টারডামে সম্পন্ন হবে এবং নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত কুমার তুহিন এই বিশেষ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন। জানিয়ে রাখি যে, ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন ইউকে (Candid Communication UK) দ্বারা উপস্থাপিত, গৌরীস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং কমিউনিটি পার্টনার হিসাবে হল্যান্ড- এ-হইচই-এর সমর্থনে আয়োজিত আমস্টারডাম মহোৎসব ২০২৬-এর লক্ষ্য হল নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত ভারতীয়-বাঙালি প্রবাসীদের একত্র করা এবং একই সঙ্গেবৃহত্তর ইউরোপিয় দর্শকদের কাছে ভারতীয়-বাঙালি সংস্কৃতির সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য তুলে ধরা। এই উৎসব সঙ্গীত থেকে শুরু করে শিল্পকলা, খাদ্য, ফ্যাশন এবং বিনোদনের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান, সামাজিক সম্পৃক্ততা এবং ঐতিহ্য উদযাপনের জন্য একটি প্রাণবন্ত মঞ্চ তৈরি করতে চায়।
ঘোষণা হল আমস্টারডাম মহোৎসব ২০২৬-এর (Amsterdam Mahotsav 2026):
উল্লেখ্য যে, মূল উৎসবে নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত কুমার তুহিন; বিশিষ্ট সমাজসেবী কেয়া বিশ্বাস এবং ভারত ও নেদারল্যান্ডসের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বদেরও উপস্থিতি দেখা যাবে। আরও একটি আকর্ষণীয় বিষয় হল, আমস্টারডাম মহোৎসব ২০২৬-এ প্রাণবন্ত সঙ্গীতের মাত্রা যোগ করতে এই উৎসবটি প্রখ্যাত বাঙালি শিল্পীদের এক চিত্তাকর্ষক সমাবেশ ঘটাবে। যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সঙ্গীত ঐতিহ্যকে উদযাপন করবে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনে মঞ্চে থাকবেন গায়ক রূপঙ্কর বাগচী, এবং দ্বিতীয় দিনে থাকবেন গায়িকা সাহানা বাজপেয়ী। এই তালিকায় আরও রয়েছেন তথাগত সেনগুপ্ত, সন্দীপা দত্ত এবং অর্ণব বসু। শিল্পীরা তাঁদের স্বতন্ত্র সঙ্গীত শৈলী ও পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের কাছে বাংলা সঙ্গীতের এক মনোমুগ্ধকর উদযাপন তুলে ধরবেন। যা প্রবাসী ভারতীয়-বাঙালি সম্প্রদায়কে তাঁদের সাংস্কৃতিক শিকড়ের সঙ্গে সংযুক্ত করবে এবং একইসঙ্গে তাঁদের নিজস্ব সঙ্গীত ঐতিহ্যের সমৃদ্ধিকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পরিচিত করাবে।

এদিকে, লন্ডন মহোৎসব ২০২৬-এ উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাওয়ার পর, আমিনিয়া হসপিটালিটি আমস্টারডাম মহোৎসব ২০২৬-এর মাধ্যমে তাদের সুপরিচিত রন্ধন অভিজ্ঞতা ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছতে পারার ক্ষেত্রে আনন্দিত। এই উদ্যোগটি কলকাতার সমৃদ্ধ রন্ধন ঐতিহ্য এবং স্বতন্ত্র স্বাদকে নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত ভারতীয়-বাঙালি প্রবাসীদের এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেবে। এই প্রসঙ্গে আমিনিয়া হসপিটালিটি প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর কবির আজহার বলেন, ‘লন্ডন মহোৎসব ২০২৬-এর সাড়া অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক এবং আমরা আমিনিয়াকে আমস্টারডামে নিয়ে আসতে পেরে আনন্দিত। আমরা কলকাতার রন্ধন ঐতিহ্যকে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে এবং আমাদের খাদ্য সংস্কৃতিকে সংজ্ঞায়িত করে এমন স্বাদ ও ঐতিহ্যের মাধ্যমে ভারতীয়-বাঙালি প্রবাসীদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে উন্মুখ।’ এদিকে, এই উৎসবে ভারতের কিছু বড় ব্র্যান্ড এবং সংস্থাগুলির একটি প্রদর্শনীও থাকবে। শাড়ি, এথনিক পোশাক, ফ্যাশন, গয়না, অ্যাক্সেসরিজ এবং লাইফস্টাইলের মতো বিভিন্ন বিভাগ জুড়ে এই প্রদর্শনীতে ভারতের কারুশিল্প, ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা এবং ক্রমবিকাশমান ফ্যাশন ট্রেন্ড তুলে ধরা হবে। এর ফলে অংশগ্রহণকারী ব্র্যান্ডগুলি তাদের পণ্য প্রদর্শন, পরিচিতি বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিংয়ের সুযোগ অন্বেষণের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম পাবে। পাশাপাশি ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময়কে উৎসাহিত করবে। এছাড়াও, তুহিনা পান্ডের তত্ত্বাবধানে মায়েদের জন্য আয়োজিত এক অনন্য সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা ‘মাতৃমা’ এই উৎসবে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করবে। মাতৃত্বের আত্মবিশ্বাস, স্বকীয়তা এবং চেতনা উদযাপনের অংশ হিসাবে ‘আমস্টারডাম মহোৎসব ২০২৬’-এর অধীনে মাতৃমার আমস্টারডাম পর্বটি আয়োজন করা হবে। বিজয়ীরা ২৬ ও ২৭ জুন লন্ডন মহোৎসব ২০২৭-এর সময় মাতৃমার গ্র্যান্ড ফাইনালে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
জানিয়ে রাখি যে, এই উৎসবে ‘ভূতের রাজা দিল বর’ এবং ‘হিন্দুস্তান সুইটস’-এর ডিরেক্টর শ্রী রাজীব কুমার পালেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ দেখা যাবে। তাঁর এই অংশগ্রহণ আমস্টারডাম মহোৎসবের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক চরিত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে। যার লক্ষ্য হলো শৈল্পিক অভিব্যক্তির বিভিন্ন রূপকে উদযাপন করা এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করা। এদিকে, লোকাল কমিউনিটি পার্টনার হিসাবে থাকা হল্যান্ড-এ হইচই নেদারল্যান্ডসের অন্যতম প্রধান বাঙালি কমিউনিটি সংগঠন। যেটি ২০১৫ সালে বাঙালিদের জন্য একটি দ্বিতীয় বাড়ি তৈরির স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। সভাপতি দ্বৈপায়ন নাথের নেতৃত্বে, হল্যান্ড-এ হইচই গত দশ বছরে তাদের বিখ্যাত হইচই দুর্গাপূজার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। হল্যান্ড-এ হইচই-এর সভাপতি দ্বৈপায়ন নাথ বলেন, ‘আমস্টারডাম মহোৎসব ২০২৬-এর জন্য, হইচই তার লোকাল নেটওয়ার্ক, স্বেচ্ছাসেবক এবং অংশীদারিত্বকে কাজে লাগিয়ে কমিউনিটির অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করবে এবং উৎসবটির সঠিক বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। যা এটিকে ভারতীয়-বাঙালি সংস্কৃতির একটি স্মরণীয় উদযাপনে পরিণত করবে।‘
আরও পড়ুন: অবশেষে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত! আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো
‘আমস্টারডাম মহোৎসব ২০২৬‘-এর সঙ্গে গৌরীস ফাউন্ডেশনের সম্পৃক্ততা সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং অর্থবহ অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্র করে এমন উদ্যোগের প্রতি তাদের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। সামগ্রিকভাবে, প্রচলিত সাংস্কৃতিক উদযাপনের বাইরে গিয়ে সঙ্গীত থেকে শুরু করে শিল্পকলা, খাদ্য, ফ্যাশন, উদ্যোক্তা এবং সামাজিক অংশগ্রহণকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন একটি মঞ্চকে সমর্থন করার মাধ্যমে, এই ফাউন্ডেশন ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে ধারণা, অভিজ্ঞতা এবং সুযোগের আরও সামগ্রিক আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করতে চায়। এই প্রসঙ্গে গৌরীস ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমতি সোমা চক্রবর্তী বলেন, ‘আমস্টারডাম মহোৎসবের সঙ্গে আমাদের সংযোগের মূলে রয়েছে এই বিশ্বাস যে, সাংস্কৃতিক মঞ্চগুলি যখন বিনোদনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়, তখন তা আরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। শিল্পকলা, সঙ্গীত, খাদ্য, ফ্যাশন, উদ্যোক্তা এবং সামাজিক সম্পৃক্ততাকে একত্র করে উৎসবটির যে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, তা অর্থবহ সংযোগ স্থাপন এবং অভিন্ন ঐতিহ্য উদযাপনের আমাদের স্বপ্নের সঙ্গে মিলে যায়। আমরা এমন একটি উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আনন্দিত, যা নেদারল্যান্ডসে বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়-বাঙালি সম্প্রদায়কে শুধু তাদের শিকড়ের কাছাকাছিই নিয়ে আসে না, বরং বৃহত্তর সম্প্রদায়ের সঙ্গে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং সহযোগিতার সুযোগও তৈরি করে।’
আরও পড়ুন: ৩ দিনে বিনিয়োগকারীদের সম্পদে ১০ লক্ষ কোটির বৃদ্ধি! দীপাবলির আগে শেয়ার বাজারে রকেটের গতি
এছাড়াও, আমস্টারডাম মহোৎসবের আয়োজক এবং ক্যান্ডিড কমিউনিকেশন ইন্ডিয়া অ্যান্ড ইউকে-র ফাউন্ডার ডিরেক্টর সায়ন্তন দাস অধিকারী বলেন, ‘লন্ডন মহোৎসবের উৎসাহব্যঞ্জক সাড়ার পর, আমরা এই সাংস্কৃতিক উৎসবটি আমস্টারডামে নিয়ে যেতে পেরে আনন্দিত। আমাদের লক্ষ্য হল সঙ্গীত, শিল্পকলা, খাদ্য, ফ্যাশন এবং সামাজিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে একটি অর্থবহ সেতুবন্ধন তৈরি করা। আমস্টারডাম মহোৎসব ভারতীয়-বাঙালি সংস্কৃতির সমৃদ্ধি উদযাপন করবে, পাশাপাশি প্রবাসীদের একত্রিত করবে এবং আমাদের ঐতিহ্যকে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে তুলে ধরবে।‘ সামগ্রিকভাবে, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, রন্ধন অভিজ্ঞতা, ফ্যাশন, প্রদর্শনী এবং সামাজিক উদ্যোগের সমন্বয়ে ‘আমস্টারডাম মহোৎসব ২০২৬’ নেদারল্যান্ডসে ভারতীয়-বাঙালি ঐতিহ্যের একটি মাইলফলক উদযাপন হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।












