ব্রিকস ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য তারেককে আমন্ত্রণ দিল্লির! ভারতে আসবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী?

Published on:

Published on:

Apart from BRICS, Bangladesh PM Tarique Rahman invited to India for a bilateral visit.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ঢাকা (Dhaka) ও দিল্লির সম্পর্কে টানাপোড়েনের আবহের মধ্যেই বড় কূটনৈতিক বার্তা এল ভারতের (India) তরফে। আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে (Tarique Rahman) আমন্ত্রণ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। মঙ্গলবার দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানান ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু ব্রিকসের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্যই নয়, দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনাও মাথায় রেখে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তারেক রহমান শেষ পর্যন্ত ভারতে আসবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও ঢাকার তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।

ব্রিকস ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য ভারতে (India) আমন্ত্রণ তারেককে:

ভারত (India)-বাংলাদেশ সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের মাটিতে থেকে তাঁর বক্তব্য রাখা নিয়ে ঢাকার অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। এই পরিস্থিতিতেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং কূটনৈতিক স্তরে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে। সেই আবহেই দিল্লির এই আমন্ত্রণকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। ভারত জানিয়েছে, ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ অনেক আগেই পাঠানো হয়েছিল এবং বাংলাদেশ সেই আমন্ত্রণ গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে সফরের ব্যাপারে এখনও আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানায়নি ঢাকা।

আরও পড়ুন: আর কল্পনা নয়, এবার সত্যিই চাঁদে তৈরি হচ্ছে বাড়ি! NASA-র প্রজেক্টে আমন্ত্রণ পেল ISRO

এরই মধ্যে সোমবার ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠকের পরদিনই ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ‘প্রথম আলো’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি ছাত্রনেতা ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণের প্রসঙ্গও উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে। যদিও ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে দিল্লি।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান অবশ্য এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য দেননি। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে সোমবার তারেকের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকের পর তাঁর দিল্লি ফিরে যাওয়া এবং সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ব্রিকসের মঞ্চকে কেন্দ্র করে তারেকের সম্ভাব্য প্রথম ভারত সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।

Apart from BRICS, Bangladesh PM Tarique Rahman invited to India for a bilateral visit.

আরও পড়ুন: একসঙ্গে হাজার হাজার চাকরি! নিয়োগে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের তরফেও ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে নতুনভাবে ‘রিঅ্যালাইন’ করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে প্রতিবেশী দেশ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তাই পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ককে নতুন কাঠামোয় এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বজায় থাকবে, তবে তা দুই স্বাধীন, সার্বভৌম এবং আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। ফলে ব্রিকস সম্মেলনে তারেকের সম্ভাব্য উপস্থিতি শুধু বহুপাক্ষিক কূটনীতির ক্ষেত্রেই নয়, দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক নতুন করে সাজানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।