বাংলাহান্ট ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে ভারত (India) সহ একাধিক দেশে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এলপিজি সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, কারণ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলি বিঘ্নিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা আর্জেন্টিনা ভারতের জন্য বিকল্প জ্বালানি উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। দূরত্ব সত্ত্বেও, এলপিজি সরবরাহে নতুন ভরসা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে লাতিন আমেরিকার এই দেশটি।
২০,০০০ কিমি দূর থেকে ভারতে (India) এলপিজি গ্যাস পাঠাচ্ছে আর্জেন্টিনা:
বর্তমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ভারতের প্রায় ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি এই রুট দিয়েই হয়ে থাকে। ফলে হরমুজে বাধা পড়ায় বিকল্প উৎসের সন্ধান শুরু করে ভারত, এবং সেই প্রেক্ষিতেই আর্জেন্টিনা থেকে আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: পোয়া বারো! কর্মীদের চিন্তা দূর করে বিজ্ঞপ্তি জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসেই ভারত প্রায় ৫০ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে আর্জেন্টিনা থেকে। যেখানে ২০২৫ সালে গোটা বছর মিলিয়ে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার টন। অর্থাৎ, চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকেই গত বছরের মোট আমদানির দ্বিগুণ ছাড়িয়ে গেছে। ৫ মার্চের পর থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ১১ হাজার টন এলপিজি ভারতে এসে পৌঁছেছে।
এই এলপিজি মূলত আর্জেন্টিনার বাহিয়া ব্ল্যাঙ্কা বন্দর থেকে রওনা দিয়ে গুজরাটের দাহেজ পৌঁছাচ্ছে। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই সমুদ্রপথ বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ জ্বালানি পরিবহণ রুট হিসেবে বিবেচিত। ফলে পরিবহণ ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেশি এবং আবহাওয়া-সহ নানা কারণে ঝুঁকিও থেকে যায়। তবুও বর্তমান সংকটের সময়ে এই সরবরাহ ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর।

আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদী! ধারেকাছেও নেই ট্রাম্প
এদিকে, ভারতে (India) নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো অগাস্টিন কৌচিনো জানিয়েছেন, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর দেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, আর্জেন্টিনায় বিপুল গ্যাস মজুত রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ‘জ্বালানি বৈচিত্র্যকরণ’ নীতি এই পরিস্থিতিতে কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে।












