বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের সামরিক প্রস্তুতিতে আমূল রূপান্তরের ইঙ্গিত দিলেন সে দেশের সেনা সর্বাধিনায়ক ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির (Asim Munir)। বৃহস্পতিবার বহয়ালপুর সেনাশিবির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে শত্রুপক্ষের আগ্রাসন মোকাবিলায় পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের কৌশল, প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আনছে। অপারেশন সিঁদুর–পরবর্তী আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে নাম না করে ভারতকে সতর্কবার্তাও দেন পাক সেনাপ্রধান।
ভবিষ্যতের যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বড় দাবি আসিম মুনিরের (Asim Munir)
বহয়ালপুরে সেনা ছাউনিতে যুদ্ধ প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন মুনির। সেখানে উপস্থিত সেনাকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সর্বতোভাবে প্রস্তুত। তাঁর কথায়, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির স্তরে রাখতে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: উদ্ধার হল অজিত পাওয়ারের দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স! তদন্ত শুরু AAIB-র
ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র যে সম্পূর্ণ ভাবে প্রযুক্তিনির্ভর হতে চলেছে, তা স্পষ্ট করে দেন পাক সেনা সর্বাধিনায়ক। মুনিরের বক্তব্য, আগামী দিনে প্রযুক্তিগত কৌশল অনেকাংশে শারীরিক সক্ষমতাকে প্রতিস্থাপন করবে এবং আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই যুদ্ধ পরিচালনার ধরণে মৌলিক পরিবর্তন আনবে। সেই কারণেই পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী দ্রুতগতিতে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ ও আত্মস্থ করার পথে এগোচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় উদ্ভাবন, স্বদেশীকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভিযোজনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের স্থলবাহিনীর প্রধান পদ থেকে মুনিরকে সেনা সর্বাধিনায়ক বা তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফের নেতৃত্বাধীন সরকার তাঁর ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব আরও বাড়াতে এই নতুন পদ সৃষ্টি করে। পাকিস্তানের সংবিধানে এত দিন পর্যন্ত স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার প্রধানদের ঊর্ধ্বে কোনও একক সামরিক পদের অস্তিত্ব ছিল না। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের জন্য বিশেষ ভাবে সংবিধান সংশোধন করে পার্লামেন্টে বিল পাশ করানো হয়।

আরও পড়ুন: পণের লোভ! অন্তঃসত্ত্বা মহিলা কমান্ডোকে ডাম্বেলের আঘাতে ‘খুন’ করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে কর্মরত স্বামী
সেনা সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বক্তৃতাতেই মুনির কড়া সুরে প্রতিবেশী দেশের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন। নাম না করে ভারতকে নিশানা করে তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তান সম্পর্কে কারও কোনও ভুল ধারণা রাখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, ভবিষ্যতে কোনও সংঘাত হলে পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া হবে আরও দ্রুত এবং আরও কঠোর। সাম্প্রতিক এই বক্তব্যে সেই আগ্রাসী অবস্থানই ফের একবার স্পষ্ট করলেন পাক সেনাপ্রধান।












