বাংলাহান্ট ডেস্ক: বারামতিতে লিয়ারজেট ৪৫ ভেঙে পড়ে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার (Ajit Pawar’s Plane Crash)-সহ পাঁচ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এখনও শোকস্তব্ধ মহারাষ্ট্র। এই দুর্ঘটনার তদন্ত কতদূর এগোল, তা জানতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রককে চিঠি দেন। সেই চিঠির উত্তরে বৃহস্পতিবার কেন্দ্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করে নিরাপদে রাখা হয়েছে এবং তা বিশ্লেষণের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে সত্য উদ্ঘাটনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হল অজিত পাওয়ারের দুর্ঘটনাগ্রস্ত (Ajit Pawar’s Plane Crash) বিমানের ব্ল্যাক বক্স!
মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত প্রযুক্তিগত নথি, অপারেশনাল তথ্য এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই তথ্যগুলির মাধ্যমেই জানা যাবে দুর্ঘটনার ঠিক আগে বিমানের পরিস্থিতি কী ছিল এবং কোন কারণ বা ত্রুটির জেরে এমন ভয়াবহ পরিণতি ঘটে। ইতিমধ্যেই Aircraft Accident Investigation Bureau (AAIB) আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই স্বচ্ছভাবে এই তদন্ত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পণের লোভ! অন্তঃসত্ত্বা মহিলা কমান্ডোকে ডাম্বেলের আঘাতে ‘খুন’ করলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে কর্মরত স্বামী
ফড়নবিশের চিঠিতে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়, তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদনও করা হয়েছিল। অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, সেই অনুরোধকেও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রস্তুত হলে তা মহারাষ্ট্র সরকারকে জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, এই রিপোর্ট ভবিষ্যতের বিমান নিরাপত্তা নীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে ব্ল্যাক বক্সকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যন্ত্রে উড়ানের সময় বিমানের গতি, উচ্চতা, যান্ত্রিক অবস্থার পাশাপাশি পাইলটদের ককপিট কথোপকথনও রেকর্ড থাকে। ফলে দুর্ঘটনার আগের শেষ কয়েক মিনিটে কী ঘটেছিল, তা জানার ক্ষেত্রে ব্ল্যাক বক্সের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

আরও পড়ুন: চার বছর পর চ্যানেল বদল, জলসার নতুন মেগায় ফিরছেন জনপ্রিয় নায়িকা! বিপরীতে বিরাট চমক
উল্লেখ্য, বুধবার সকালে বারামতিতে লিয়ারজেট ৪৫ ভেঙে পড়ে মৃত্যু হয় উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার, তাঁর নিরাপত্তা আধিকারিক বিদিপ যাধব, পাইলট-ইন-কমান্ড ক্যাপ্টেন সুমিত কপুর, ফার্স্ট অফিসার ক্যাপ্টেন শম্ভাবি পাঠক এবং ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট পিঙ্কি মালির। মন্ত্রকের প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, বিমানটি দু’বার অবতরণের চেষ্টা করেছিল। প্রথমে ক্রুরা জানান রানওয়ে দেখা যাচ্ছে না, পরে দৃশ্যমান হওয়ার কথা জানালে সকাল ৮টা ৪৩ মিনিটে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু মাত্র এক মিনিটের মধ্যেই এটিসি বিমানটিকে জ্বলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। এই তথ্যই তদন্তে নতুন প্রশ্ন ও গুরুত্ব বাড়িয়েছে।












