ভারতের কৌশলে কুপোকাত বাংলাদেশ! সঙ্কটের সম্মুখীন হাজার হাজার কর্মসংস্থান

Published on:

Published on:

Bangladesh is facing a crisis due to India's strategy.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের (Bangladesh) ইউনূস সরকার ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমাগত বিষোদগার করেছে। বাংলাদেশ ভেবেছিল এক্ষেত্রে পাকিস্তানের সমর্থন পেতে তারা সফল হবে। তবে, ভারত এমন একটি কৌশল গ্রহণ করেছে যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ফলস্বরূপ, যে শিল্প একসময় বাংলাদেশকে টিকিয়ে রেখেছিল, তা এখন চরম সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ কখন ভারতের সস্তা সুতোর জালে জড়িয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছিল তা টেরও পায়নি।

বাংলাদেশে (Bangladesh) টেক্সটাইল শিল্প সঙ্কটের সম্মুখীন:

জানিয়ে রাখি যে, বাংলাদেশের বৃহত্তম শিল্প হল টেক্সটাইল। যা ওই দেশকে এই সেক্টরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানিকারী করে তোলে। জারা এবং এইচএন্ডএম-এর মতো ব্র্যান্ডগুলিও বাংলাদেশ থেকে পোশাক তৈরি করে। যা পরে গ্লোবাল মার্কেটে পৌঁছে যায়। বাংলাদেশ একাই প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রফতানি করে। এই পোশাক তৈরির জন্য বাংলাদেশ ভারত থেকে সুতো আমদানি করে। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে বিষয়টি হলো বাংলাদেশ ভারত থেকে সস্তায় সুতো কিনে সেগুলি থেকে পোশাক তৈরি করে বিশ্ব বাজারে বিক্রি করে। কিন্তু, বাংলাদেশ এই সস্তা সুতার প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছে যে, আজ সেই সুতোর কারণেই তাদের কোটি কোটি ডলারের ব্যবসা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শুধু তাই নয়, সামগ্রিক পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক হয়ে গিয়েছে যে মিল মালিকরা সরকারকে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে যে যদি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয় সেক্ষেত্রে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সমস্ত টেক্সটাইল মিল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

Bangladesh is facing a crisis due to India's strategy.

বাংলাদেশ কীভাবে ফাঁদে পড়ল: উল্লেখ্য যে বাংলাদেশ তার টেক্সটাইল শিল্পের চাহিদা মেটাতে স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে সুতো উৎপাদন করে না। তাই, তারা ভারত ও চিন থেকে সস্তায় সুতো আমদানি করে। ভারতের সুতো উন্নত মানের এবং সস্তা হওয়ায় এগুলির চাহিদাও বেশি থাকে। ২০২৫ সালে, বাংলাদেশ ৭০ কোটি কিলোগ্রাম সুতো আমদানি করেছিল। যার মধ্যে ৭৮ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সুতো শুধুমাত্র ভারত থেকে আমদানি করা হয়েছিল। এই আমদানির মূল কারণ হল, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থার অধীনে সুতো আমদানিতে ক্রেতাদের কোনও আমদানি শুল্ক দিতে হয় না।

আরও পড়ুন: টাটার এই কোম্পানির স্টকে বড় পতন! ৭৫ শতাংশেরও বেশি কমল দাম, মাথায় হাত বিনিয়োগকারীদের

সুতোর মধ্যেই জড়িয়ে পড়েছে মিল: ভারত থেকে সস্তায় সুতোর আমদানি এতটাই বেড়ে গেছে যে বাংলাদেশের স্থানীয় মিলগুলিতে প্রায় ১০,০০০, কোটি টাকার সুতো মজুত হয়ে রয়েছে। যা কেউ কিনতে রাজি নয়। এই জমে থাকা স্টকের ফলে সারা দেশে ৫০ টিরও বেশি মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ শতাংশ কমে গেছে। এই সঙ্কটের কারণে হাজার হাজার চাকরিও প্রভাবিত হয়েছে। গত ৪ থেকে ৫ মাস ধরে বাংলাদেশে গ্যাস সঙ্কট চলছে। যার কারণে ঋণ ও ঋণ পরিশোধের সঙ্কটও বেড়েছে। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMA) সরকারকে স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভারত থেকে সুতো ডাম্পিং বন্ধ না করা হলে, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: অকৃতজ্ঞ বাংলাদেশ! বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বকেয়া টাকা না মিটিয়েই আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে তুলল অভিযোগ

সস্তা সুতোর ফাঁদ: একদিকে, বাংলাদেশি টেক্সটাইল রফতানিকারীরা সস্তা সুতা আমদানিকে প্রাধান্য দেন কারণ স্থানীয় সুতো ব্যয়বহুল এবং নিম্নমানের। এমতাবস্থায়, যদি আমদানি বন্ধ করা হয়, তাহলে খরচ বাড়বে এবং উৎপাদন বিলম্বিত হবে। যার ফলে অর্ডার হ্রাস পেতে পারে। যদি সরকারি পদক্ষেপ আমদানি বন্ধ করে দেয়, তাহলে উৎপাদকদের স্থানীয় সুতো বেশি দামে কিনতে হবে। এটি তাদের প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলবে। আগে, ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাগুলি ২ দিনে ১০ থেকে ২০ টন সুতোর অর্ডার পেত। কিন্তু, এখন বিলম্ব হবে এবং উৎপাদনও প্রভাবিত হতে পারে।