বাংলা হান্ট ডেস্ক: কয়লার দাম এবং বিদ্যুতের শুল্ক নিয়ে ভারতীয় কোম্পানি আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে চলমান বিরোধের আবহেই বাংলাদেশ (Bangladesh) এবার আন্তর্জাতিক আইনি লড়াই তীব্র করেছে। গত শুক্রবার আধিকারিকরা নিশ্চিত করেছেন যে, বাংলাদেশ সরকার এই ঘটনায় স্টেট-রান পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (BPDB) প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একটি ব্রিটিশ আইন সংস্থাকে নিযুক্ত করেছে। BPDB আধিকারিকদের মতে, ওই ঘটনায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য লন্ডনে স্থিত আইন সংস্থা 3VP-কে নিযুক্ত করা হয়েছে। ওই ফার্মটির বাণিজ্যিক ও আর্থিক বিরোধের সমাধানের ক্ষেত্রে দক্ষতা রয়েছে। এমতাবস্থায়, ওই সংস্থাটি সিঙ্গাপুর আন্তর্জাতিক আরবিট্রেশন সেন্টারে (SIAC) চলমান সালিশি কার্যক্রমে BPDB-র প্রতিনিধিত্ব করবে।
আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ বাংলাদেশের (Bangladesh)?
3VP ফার্মের ভূমিকা: বাংলাদেশের সংবাদপত্র বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (TBS) অনুসারে, 3VP চেম্বারস গত কয়েক মাস ধরে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনাকারী একটি জাতীয় কমিটিকে আইনি পরামর্শ প্রদান করে আসছে। এই আইন সংস্থার প্রধান হলেন কিংস কাউন্সেল ফারহাজ খান। যিনি আন্তর্জাতিক বিষয়ে একজন অভিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে বিবেচিত হন। মূলত, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ খাত-সম্পর্কিত চুক্তিগুলির ওপর জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় এই নতুন বিষয়টি সামনে আসে। রিপোর্ট জমা দেওয়ার মাত্র ৫ দিন পরেই আনুষ্ঠানিকভাবে 3VP-কে নিয়োগ করা হয়।

কী জানা গিয়েছে: ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিভাগের একজন উচ্চ আধিকারিক ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই ব্রিটিশ ল ফার্মের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কারণ। কারণ আদানি পাওয়ার লিমিটেড গত বছর সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে আরবিট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তবে, আদানি পাওয়ার দাবি করেছিল যে, বিতর্কিত কয়লা শুল্ক সম্পর্কিত প্রায় ৪৮৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অর্থ এখনও বকেয়া রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধান অভিযোগ: এদিকে, বাংলাদেশের দাবি, আদানি পাওয়ার অতিরিক্ত দামে কয়লা বিক্রি করছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। যা সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে বলেও দাবি করা হয়। জানিয়ে রাখি যে, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের পর শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) আদানির সঙ্গে চুক্তি পুনর্বিবেচনার প্রচেষ্টা জোরদার করে। যাতে শর্তাবলী পর্যালোচনা করা যায় এবং খরচ কমানো যায়।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে একী কাণ্ড! নাক ভাঙল এই খেলোয়াড়ের
কী জানিয়েছে কমিটি: ইতিমধ্যেই জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি জানিয়েছে যে, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ শুরু করার জন্য তাদের কাছে পর্যাপ্ত এবং শক্তিশালী প্রমাণ রয়েছে। কমিটি বিশ্বাস করে যে এই প্রমাণের ভিত্তিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতের কাছে যেতে পারে। এদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জ্বালানি পরামর্শদাতা ফৌজুল কবির খানের মতে, আদানির আধিকারিকদের এবং কিছু বাংলাদেশি আধিকারিকের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কমিটি আদালতে এই প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, কমিটি কর্তৃক সংগৃহীত সমস্ত প্রমাণ আরও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ACC এখন এই অভিযোগগুলির একটি স্বাধীন তদন্ত করবে।
আরও পড়ুন: আর নেই চিন্তা! শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে সহজেই হন লাভবান, উপায় বাতলে দেবেন দীপাঞ্জন
আদানি পাওয়ার গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে: এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, আদানি পাওয়ার ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১,৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ ২০২৫ সালের জুন মাসে ৪৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এককালীন পরিশোধের মাধ্যমে ৩১ মার্চ, ২০২৫ পর্যন্ত সমস্ত বকেয়া পরিশোধ করেছে। এর আগে, বকেয়া পরিশোধে বিলম্বের কারণে আদানি বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছিল। এর ফলে বাংলাদেশের জন্য সমস্যা তৈরি হয়। কিন্তু বকেয়া অর্থ পরিশোধের পর, এখন সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।












