বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলে (TMC) ভাঙনের ধারা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহাদের হাত ধরে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করেছে। শুক্রবার আবার দলে একাধিক সাংগঠনিক রদবদলের ঘোষণা করা হয়। এর পরের দিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। সেখানে উঠে এল ‘ভুলের’ কথা।
বারবার একই ভুলের সঙ্গে নেইঃ কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)
শনিবার সকালে নিজের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন তৃণমূল বিধায়ক। সেখানে লেখেন, “১) আমি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক, মমতাদির প্রতীকের বিধায়ক। ২) ভোটের একমাসের মধ্যে যারা ‘রহস্যজনক ব্যক্তিগত’ স্বার্থে প্রতিপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় মমতাদির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, আমি তা সমর্থন করি না। আমি মমতাদির সঙ্গেই আছি।“ এরপরেই কুণালের পোস্টে ‘ভুলের’ প্রসঙ্গ উঠে আসে।
আরও পড়ুনঃ বাংলার ফুটবল ও ডার্বির ঐতিহ্যের প্রতীক! যুবভারতীর সামনে এবার কোন মূর্তি বসছে? জানালেন নিশীথ
বেলেঘাটার বিধায়ক লিখেছেন, “৩) তবে দলের ভুলত্রুটি সংশোধনের বদলে বিভিন্ন স্তরে যদি ভুল চলতে থাকে, সেটা দেখেও চোখ বুজে থাকতে পারব না। এখনও যে বিপুল কর্মীরা বিভিন্ন জেলা থেকে যোগাযোগ করছেন, ছাত্র-যুবরা যোগাযোগ করছে, অনেক কিছু বলছে, সেগুলি শুনছি, শুনব। তাঁদের সঙ্গে বসতে অনুরোধ করেছেন, বসব। তার পরেরটা পরে দেখা যাবে।“
নিজের পোস্টের শেষে কুণাল লেখেন, দলনেত্রীর সঙ্গে থাকলেও বারবার একই ভুলের সঙ্গে তিনি নেই। তাঁর কথায়, “মমতাদির সঙ্গে আছি। কিন্তু বারবার একই ভুলের সঙ্গে নেই। বিশ্বাসঘাতকতাতেও নেই। কান, চোখ, মস্তিষ্ক, হৃদয় ও মুখের পূর্ণ ব্যবহার চলবে। ঘরে বাইরে। জয় বাংলা।“

এদিন কুণাল এই পোস্ট করার পরেই বেশ কিছু জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি গতকাল দলনেত্রীর নেওয়া সিদ্ধান্তে আপত্তি রয়েছে বেলেঘাটার বিধায়কের? যদিও সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে নিজের পোস্টে কিছু লেখেননি তিনি।
অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে ফাটল ধরলেও বরাবর নিজের অবস্থান স্পষ্ট রেখেছেন কুণাল ঘোষ। সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠক থেকে শুরু করে ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ, সর্বত্র উপস্থিত থেকেছেন তিনি। এই পোস্টেও তিনি লিখেছেন, “মমতাদির সঙ্গে আছি। কিন্তু বারবার এক ভুলের সঙ্গে নেই”। এই ‘এক ভুল’ বলতে তিনি কোনদিকে ইঙ্গিত করেছেন, সেটা নিয়েই জল্পনা কল্পনা শুরু হয়েছে।













