বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের প্রাক্কালে (West Bengal Assembly Election) জগদ্দলে তৃণমূল ও বিজেপির সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার নিয়েছে। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। জানা গিয়েছে, নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংকে (Arjun Singh) হামলার অভিযোগে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। থানার সামনে দুই পক্ষের মধ্যে বিবাদ শুরু হয়, পরে তা সংঘর্ষে পরিণত হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়—চলতে থাকে ধাক্কাধাক্কি, মারপিট এবং ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি। অভিযোগ ওঠে, এই সংঘর্ষের মধ্যেই গুলিও চালানো হয়, যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক জওয়ান আহত হন।
তৃণমূল বিজেপির সংঘর্ষ (TMC BJP Clash)
বিজেপির দাবি, তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীরা অর্জুন সিংয়ের বাড়িকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সেই সময় তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ানের গুলি লাগে। পুলিশ ইতিমধ্যেই তৃণমূলের এক কাউন্সিলর-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনও ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে জগদ্দলের পরিস্থিতি বেশ চাপা উত্তেজনায় ভরা। জানা গিয়েছে, গোলমালের সূত্রপাত শনিবার রাতেই। বিজেপি প্রার্থী রাজেশ শর্মার অভিযোগ, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি। এরপর তিনি দাবি করেন, তৃণমূলের বহু সমর্থক থানায় ঢুকে তাঁকে আক্রমণ করে। সেই সময় পুলিশ কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল বলেও অভিযোগ তাঁর। এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান অর্জুন সিং। নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী জানান, থানায় পৌঁছে তিনি দেখেন বিপুল সংখ্যক তৃণমূল কর্মী সেখানে জড়ো হয়েছেন।
বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, থানার সামনেই তৃণমূল সমর্থিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অর্জুন সিংকে ঘিরেও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর বিজেপি প্রার্থী পবন সিংয়ের বাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে।
সেই সময় তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ান যোগেশ শর্মা বাইরে বেরিয়ে এলে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুলিতে তাঁর পায়ে আঘাত লাগে। দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে কলকাতার বাইপাস সংলগ্ন একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। ঘটনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে।
এই অভিযোগে, তৃণমূলের এক কাউন্সিলর-সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও এক কাউন্সিলরের খোঁজে তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি ভাটপাড়ার ভাইস চেয়ারম্যানের সন্ধানেও তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

আরও পড়ুন : মমতার এলাকাতে দাঁড়িয়েই পরিষেবা নিয়ে বড় বার্তা শুভেন্দুর
এই প্রসঙ্গে, তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসন এখন চলছে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে। তারা জবরদখল করেছে পুলিশ প্রশাসনকে। সেইসব ঘটনাই দেখছি। অর্জুন সিং হল সবথেকে নামকরা গুন্ডা। শুধু গুন্ডামি করে।” ভোটের আগে এই ধরনের হিংসাত্মক পরিস্থিতি ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে এখন জগদ্দলের পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।













