বাংলা হান্ট ডেস্ক: ২০২৬-২৭ সালের বাজেটে (Budget 2026) সরকার কৃষিকাজকে লাভজনক করার জন্য একটি নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে। এবার কৃষি থেকে শুরু করে কৃষিজাত ব্যবসা এবং আধুনিক প্রযুক্তিকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায়, কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, গ্রামে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষির ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের জন্য অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ঘোষণা করেছেন। এই উদ্যোগের আওতায় কৃষিক্ষেত্রের জন্য ১,৬২,৬৭১ কোটি টাকার বরাদ্দ করা হয়েছে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এবার উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলিতে আগর কাঠের প্রচার করা হবে। এই কাঠ সোনার মতো দামি। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল।
বাজেটে (Budget 2026) হল বড় ঘোষণা:
আগর কাঠের দাম: জানিয়ে রাখি যে, এই গাছ ‘আগরউড’ বা আউদ’ নামেও পরিচিত। এই গাছের কাঠ ভারী এবং সুগন্ধযুক্ত হওয়ার পাশাপাশি রজন (তেলের মতো আঠা) সমৃদ্ধ হয়। অ্যাকুইলারিয়া প্রজাতির একটি সুস্থ আগর গাছ যখন ছত্রাকের সংক্রমণ বা আঘাতের দ্বারা আক্রান্ত হয় তখন এই রজন তৈরি হয়। গাছটি এই সুগন্ধি রজন উৎপাদন করে তার ক্ষতের প্রতি সাড়া দেয়। হাইড্রো-ডিস্টিলেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই কাঠ থেকে আউদ তেল বের করা হয়। মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, ১ কেজি উচ্চমানের আউদ তেলের দাম ৭০ লক্ষ টাকারও বেশি বলে জানা গেছে। যেখানে ১ গ্রাম তেলের দাম প্রায় ৯,০০০ টাকা।

ভারতে কোথায় কোথায় পাওয়া যায় এই গাছ: জানিয়ে রাখি যে, ভারতে, আগর গাছ আসাম থেকে শুরু করে অরুণাচল প্রদেশ, নাগাল্যান্ড, মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং মেঘালয়ে প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়। আসামে, এই গাছটি জসি এবং সাঁচি নামেও পরিচিত। এমতাবস্থায়, বাজেটে উত্তর-পূর্বের সুগন্ধী আগর গাছের চাষ ও প্রসারে বিশেষ সাহায্য প্রদান করা হযবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ICC! PCB-র বিরুদ্ধে নেওয়া হবে এই ৫ টি অ্যাকশন?
এদিকে, বর্তমানে ভারতের পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে যেমন কেরালা, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাটেও আগর গাছের জৈব চাষ করা হচ্ছে। সেখানকার মাটি এবং জলবায়ু এই গাছের জন্য উপযুক্ত। আগর গাছের গড় উচ্চতা ২১ মিটার। গাছটির কাণ্ড প্রায় ১.৫ থেকে ২.৪ মিটার পুরু হয়। এই গাছের কাণ্ড প্রায় সোজা এবং ডোরাকাটা হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: বড় চমক Apple-এর! এবার আপনার না বলা কথাও বুঝতে পারবে iPhone
আগর তেলের ব্যবহার: জানিয়ে রাখি যে, আগর কাঠ থেকে নিষ্কাশিত আউদ তেল সুগন্ধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেটি বিশুদ্ধ আকারে এবং চন্দন, কস্তুরী, জাফরান এবং অ্যাম্বারের মতো প্রাকৃতিক সুগন্ধি পদার্থের সঙ্গে একত্রে ব্যবহৃত হয়। এটি সুগন্ধি শিল্পে ব্যবহৃত প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল কাঁচামালগুলির মধ্যে অন্যতম একটি। চিন, ভারত এবং আরবের দেশে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঔষধি হিসেবে আউদ তেল ব্যবহৃত হয়ে আসছে।












