বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন একটি কর্মসূচি চালু করতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের চিন্তাধারা, কর্মজীবন এবং জাতীয় পরিসরে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ ও সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে একাধিক কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী পরিকল্পনা রাজ্য সরকারের (West Bengal Government)?
উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত সময়কে ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পক্ষ’ হিসেবে পালন করতে হবে। এই নির্দেশ সরকারি, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি—সব ধরনের কলেজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। জন্মবার্ষিকী থেকে মৃত্যুবার্ষিকী পর্যন্ত বিস্তৃত এই সময়কালে নানা শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকে ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, জ্ঞানমূলক কুইজ, আলোচনা সভা এবং অন্যান্য তথ্যভিত্তিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। প্রশাসনের মতে, এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের সামনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবদানকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। শুধু অনুষ্ঠান করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। প্রতিটি কর্মসূচির বিস্তারিত রেকর্ড সংরক্ষণ করার পাশাপাশি জিও-ট্যাগযুক্ত আলোকচিত্রও সংগ্রহ করে রাখতে হবে।
ভবিষ্যতে দফতরের প্রয়োজন হলে সেই নথি জমা দেওয়ার জন্যও প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষকে। রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনায় পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : ৫ লক্ষ টাকার চিকিৎসা সুবিধা পেতে চান? আয়ুষ্মান কার্ডে এই ভুল করলেই বাতিল হতে পারে আবেদন
উল্লেখ্য, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্যাপন নিয়েও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে পৃথক নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০ জুন বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজনের কথা বলা হয়। এই প্রসঙ্গে এক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর মূল্যায়ন, বাংলার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আলোচনায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবস্থানকে আরও সুস্পষ্ট করে তুলতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘দীর্ঘদিন ধরে তিনি মূলধারার বাঙালি রাজনৈতিক আইকনদের তালিকার বাইরে ছিলেন। এখন তাঁকে নতুন করে জনমানসে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে।’ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিহাস ও রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে নতুনভাবে সামনে আনার প্রয়াস শুরু হয়েছে।

















