বাংলাহান্ট ডেস্ক: দিল্লির সরু গলিতে বালতিতে করে রসগোল্লা বিক্রি করার দিন থেকে আজ কোটি কোটি টাকার বিশ্বব্যাপী খাদ্য উদ্যোগ—বিকানেরওয়ালার যাত্রা স্বাদ, ঐতিহ্য ও কঠোর পরিশ্রমের এক অনন্য সাফল্যের গল্প (Success Story) । আজ দেশীয় খাবারের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলির মধ্যে বিকানেরওয়ালার নাম উচ্চারিত হয়, যার মিষ্টি ও খাবার শুধু ভারতে নয়, বিশ্বের নানা প্রান্তে বিবাহ, উৎসব ও পারিবারিক উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।
বিকানেরওয়ালার অনন্য সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
এই সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল আজকের ঝাঁ-চকচকে কারখানা বা শত শত আউটলেটের অনেক আগেই। একটি হোটেলে আয়োজিত স্যাটকন ২০২৬-এর ফাঁকে লোকাল১৮-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিকানেরওয়ালার ডিরেক্টর রমেশ কুমার ব্র্যান্ডের বিনয়ী সূচনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৫৬ সালে তাঁর বাবা কেদারনাথ, যাঁকে সবাই কাকা বলে ডাকতেন, এবং কাকা সত্যনারায়ণ বিকানের থেকে দিল্লিতে এসে এই উদ্যোগের ভিত্তি স্থাপন করেন। কোনও মূলধন বা পরিকাঠামো না থাকায়, দু’জনে নিজেরাই হাতে রসগোল্লা ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি-নমকিন তৈরি করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতেন, বালতিতে করে জিনিসপত্র বহন করে।
আরও পড়ুন: প্রজাতন্ত্র দিবসে নাশকতার আশঙ্কা, এআই সানগ্লাসে সন্দেহভাজন ধরবে দিল্লি পুলিশ
ধীরে ধীরে বিকানেরি স্বাদের এই খাবারের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে এবং চাহিদা বাড়তে থাকে। এর পর কেদারনাথ দিল্লিতে একটি ছোট দোকান খোলেন এবং কয়েকজন কর্মী নিয়োগ করে নিজে হাতে তাঁদের বিকানেরি ঘরানার মিষ্টি ও নমকিন তৈরির প্রশিক্ষণ দেন। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসাটি শুধুমাত্র মিষ্টি ও স্ন্যাক্সেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ১৯৯০ সালে পরিবারটি একটি সাহসী সিদ্ধান্ত নেয়—একটি সম্পূর্ণ নিরামিষ রেস্তোরাঁ খোলা, এমন এক সময়ে যখন এই ধরনের রেস্তোরাঁ খুব কম ছিল এবং তেমন জনপ্রিয়ও নয়।
প্রচলিত ধ্যানধারণার বিপরীতে, এই নিরামিষ রেস্তোরাঁ দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায়। রমেশ কুমার জানান, একসময় নবরাত্রি ছিল বিক্রির দিক থেকে সবচেয়ে দুর্বল সময়, কিন্তু আজ সেটিই সবচেয়ে লাভজনক মরসুম। বিশেষভাবে তৈরি নবরাত্রি থালিতে ব্রত-বান্ধব নানা খাবার যোগ করে গ্রাহকদের আকর্ষণ করা হয়েছে। ফলের চাট ও পুরি-আলু সবজি দিয়ে শুরু হওয়া এই বিশেষ মেনু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও সমৃদ্ধ হয়েছে।

আরও পড়ুন: বড়সড় নাশকতার ছক? প্রজাতন্ত্র দিবসের আগেই জম্মু কাশ্মীরে যৌথ সেনা অভিযান, নিকেশ জইশ জঙ্গি
আজ বিকানেরওয়ালা প্রায় ১১ হাজার কর্মীকে কর্মসংস্থান দেয় এবং বিশ্বজুড়ে ২৫০টিরও বেশি আউটলেট পরিচালনা করে। নেপাল দিয়ে শুরু হয় তাদের আন্তর্জাতিক যাত্রা, এরপর পশ্চিম এশিয়ায় বিস্তার, যেখানে শুধু দুবাইতেই রয়েছে ১৭টি আউটলেট। পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডেও বিকানেরওয়ালার উপস্থিতি রয়েছে—যা একসময় দিল্লির রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো সেই স্বাদকে আজ পৌঁছে দিচ্ছে বিশ্বদরবারে।












