বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্রে অদিতি মুন্সির (Aditi Munshi) ভোটের প্রচার ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা এবার আরও নতুন উত্তেজনা তৈরি করল। তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সীর প্রচারে বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল বিজেপি। শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেনি তারা, পুরো বিষয়টিকে আইন ভাঙার গুরুতর ঘটনা বলে দাবি করে কড়া ব্যবস্থার আবেদনও জানানো হয়েছে।
অদিতি মুন্সির (Aditi Munshi) ভোট প্রচারে বিদেশি নাগরিক? কমিশনের কাছে চিঠি বিজেপির
রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অদিতি মুন্সীর (Aditi Munshi) নির্বাচনী প্রচারে বিদেশি নাগরিকদের অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছে। ১৩ এপ্রিল লেখা ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এই ঘটনা আদর্শ আচরণবিধি এবং একাধিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
চিঠিতে কী জানিয়েছে বিজেপি?
চিঠিতে বিজেপি উল্লেখ করেছে, নির্বাচন একটি দেশের সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে শুধুমাত্র দেশের নাগরিকদেরই অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে। সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিকরাই ভোটাধিকার পান। বিজেপির অভিযোগ, অদিতি মুন্সী (Aditi Munshi) তাঁর প্রচারে বিদেশি নাগরিকদের বিশেষ করে নাইজিরীয় বংশোদ্ভূত কয়েকজনকে ব্যবহার করেছেন। তাঁদের তৃণমূলের পতাকা, ব্যাজ পরে এবং দলীয় স্লোগান দিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রচার করেছেন, যা ভারতীয় আইনে অনুমোদিত নয়। এই অভিযোগের সমর্থনে একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিয়োর লিঙ্কও নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
বিজেপি তাদের চিঠিতে আরও জানিয়েছে, বিদেশি নাগরিকদের এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ভিসা নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘন। বিদেশিরা ভারতে শুধুমাত্র তাঁদের ভিসায় উল্লেখিত কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারেন। রাজনৈতিক প্রচারে অংশ নেওয়ার কোনও অনুমতি নেই। এই ক্ষেত্রে ১৯৪৬ সালের বিদেশি আইন এবং ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১২৩ ধারার উল্লেখ করে বিজেপি জানিয়েছে, প্রচারে বিদেশিদের ব্যবহার “দুর্নীতিমূলক কাজ” হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা প্রার্থীর অযোগ্যতা বা নির্বাচন বাতিলের কারণও হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি মূল দাবি জানিয়েছে বিজেপি। দাবিগুলি হল –
- প্রথমত, অদিতি মুন্সীর (Aditi Munshi) বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং তাঁকে প্রচার থেকে বিরত রাখা হোক।
- দ্বিতীয়ত, সংশ্লিষ্ট ভিডিয়োটি সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হোক।
- তৃতীয়ত, অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে তাঁদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।
বিজেপির মতে, এই ঘটনা শুধুমাত্র একটি নিয়মভঙ্গ নয়, বরং দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত। তাই দ্রুত এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেই তারা মনে করছে।

আরও পড়ুনঃ মোথাবাড়ি কাণ্ডে একের পর এক গ্রেপ্তার! NIA-র জালে এবার বড় নাম
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় বাংলাদেশি অভিনেতা ফিরদৌস আহমেদের প্রচারে অংশগ্রহণ নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার পর তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান অদিতি মুন্সির (Aditi Munshi) প্রচারের ঘটনাকে ঘিরেও সেই পুরনো বিতর্ক আবার প্রকাশ্যে এসেছে।
Edited by Sharmi Dhar












