মিষ্টি থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক সামগ্রী! গত বছরের তুলনায় এবারের দীপাবলিতে কত বেড়েছে দাম?

Published on:

Published on:

By how much have prices increased for Diwali 2026 compared to last year?

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই দীপাবলির (Diwali 2026) আবহে চারিদিকে সাজ সাজ রব। তবে, চলতি বছরের দীপাবলিতে পকেটে টান (Inflation) পড়তে পারে আমজনতার। মূলত, মিষ্টি থেকে শুরু করে ড্রাই ফ্রুটস (Dry Fruits) এবং ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর দাম গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎসবের মরসুমের আগেই আমূল সহ একাধিক দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা তাদের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। এদিকে, পেস্তা, বাদাম এবং কাজুর মতো ড্রাই ফ্রুটসেরও দামও বেড়েছে। এর ফলে শুধু সাধারণ মানুষের দীপাবলির বাজেটই প্রভাবিত হচ্ছে না; পাশাপাশি, মিষ্টি তৈরির সংস্থা ও ব্যবসায়ীদেরও খরচ বেড়ে গেছে।

গত বছরের দীপাবলি থেকে এবারে (Diwali 2026) কত বেড়েছে দাম?

দুধ, ঘি ও মাখনের দাম বেড়েছে: জানিয়ে রাখি যে, দীপাবলির সময়ে দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ে। এই আবহেই আমূল এবং কর্ণাটকের নন্দিনী ডেয়ারি তাদের বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়িয়েছে। তামিলনাড়ুর রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন দুগ্ধ সংস্থা, আবিনও ঘি, মাখন, দই এবং মিষ্টির দাম বাড়িয়েছে। ১ কেজি আমূল ঘি-র প্যাকেটের দাম ৬৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৮০ টাকা হয়েছে। এদিকে, ৫০০ গ্রামের খাঁটি ঘি-র প্যাকেট এখন ৩২৫ টাকার পরিবর্তে ৩৪৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাখনের দামও বেড়েছে। আমূল মাখনের ১০০ গ্রামের প্যাকেটের দাম ৬৩ টাকা থেকে বেড়ে ৬৬ টাকা হয়েছে এবং ৫০০ গ্রামের প্যাকেটের দাম ৩১০ টাকা থেকে বেড়ে ৩২৫ টাকা হয়েছে।

By how much have prices increased for Diwali 2026 compared to last year?

দাম বেড়েছে ড্রাই ফ্রুটসের: উল্লেখ্য যে, দীপাবলিতে মিষ্টি এবং উপহারের প্যাকেটে ড্রাই ফ্রুটস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এই বছর সেগুলির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইকোনমিক টাইমসের একটি রিপোর্ট অনুসারে, গত এক বছরে কিছু ড্রাই ফ্রুটসের দাম ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। যার মধ্যে পেস্তার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গত বছরের দীপাবলির তুলনায় এর দাম ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়াও, গত এক বছরে কাজুবাদামের দাম ৫ থেকে ৮ শতাংশ, কিশমিশের দাম ২ থেকে ৫ শতাংশ, খেজুরের দাম ৫ থেকে ১০ শতাংশ এবং ডুমুরের দাম ৫ থেকে ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

আরও পড়ুন: বাপ কা বেটা! চার-ছয়ের ঝড়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে শেহওয়াগ-পুত্রের দাপট, জয় দিয়ে সফর শুরু ভারতের

ইলেকট্রনিক সামগ্রীও অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে: মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে এসি, টিভি, রেফ্রিজারেটর ও ওয়াশিং মেশিনের মতো ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দাম সামগ্রিকভাবে ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বছর কোম্পানিগুলি বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ৩ বার দাম বাড়িয়েছে। যার সর্বশেষ বৃদ্ধিটি হয়েছে ২০২৬ সালের অক্টোবরে উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে। যেখানে ৩ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এর মানে হল, মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব এখন আর কয়েকটি নির্দিষ্ট জিনিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ভারতের প্রাক্তন অধিনায়কের বাড়িতে একী কাণ্ড! চুরি অলিম্পিকের গোল্ড মেডেল

খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি: জানিয়ে রাখি যে, ক্রমবর্ধমান খাদ্যপণ্যের দামের প্রভাব মুদ্রাস্ফীতির তথ্যেও প্রতিফলিত হয়েছে। ২০২৬-এর সেপ্টেম্বরে খুচরো খাদ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৭.৭৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এদিকে সামগ্রিক খুচরো মুদ্রাস্ফীতি ৫.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছে। যা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ৬ শতাংশের কাছাকাছি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে চিনির দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে মিষ্টি এবং চিনি থেকে তৈরি অন্যান্য মিষ্টিজাতীয় পণ্যের মুদ্রাস্ফীতির হারও বেড়েছে।