বাংলা হান্ট ডেস্কঃ তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)-র মামলায় পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। নিয়ম না মেনে পুলিসের অতি সক্রিয়তা কেন? কেন এত দ্রুত পদক্ষেপ করা হল? সোমবার এই প্রশ্নই তুলেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।
মহুয়ার মামলায় আদালতের প্রশ্নের মুখে রাজ্য পুলিস | Calcutta High Court
একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একটি স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়। সেখানে দাবি করা হয় সেটি নাকি মহুয়া মৈত্র এবং ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের ব্যক্তিগত কথোপকথনের অংশ, যাকে ‘লাভ চ্যাট’ও হয়। মহুয়ার অভিযোগ, ভাইরাল হওয়া সেই চ্যাট সম্পূর্ণ ভুয়ো ও মনগড়া।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি নদিয়ার কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেন মহুয়া মৈত্র। এরপরই তড়িঘড়ি ময়দানে নামে পুলিশ। সাংসদের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু হয়। বলা হয় প্রাথমিকভাবে তদন্তে ডিজিটাল ফরেন্সিক পরীক্ষায় উঠে এসেছে ওই স্ক্রিনশটটি ভুয়ো।
এরপরই যেই ব্যক্তি এক্স হ্যান্ডেল ওই পোস্ট করেন তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়। তবে তিনি হাজিরা না দেওয়ায় নদিয়ার আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পুলিশের বিশেষ দল পৌঁছে যায় নয়ডায়। এদিকে গ্রেফতারি এড়াতে ওই ব্যক্তি কলকাতা হাইকোর্টে এফআইআর খারিজের আবেদন জানান।
অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, ইলেকট্রনিকস অভিযোগ দায়েরর ক্ষেত্রে ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগকারীকে সশরীরে থানায় গিয়ে এফআইআরে স্বাক্ষর করে অভিযোগ দায়ের করার নিয়ম থাকলেও এক্ষেত্রে অভিযোগকারীর এফআইআরে কোনও স্বাক্ষর নেই। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো হয়েছে।
অভিযুক্তের আইনজীবী আরও বলেন, অভিযোগ দায়েরের সঙ্গে সঙ্গেই সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূতভাবে কোতোয়ালি থানার পুলিস নয়ডায় অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দেয়। এই নিয়েই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। রাজ্যের আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন তিনি। রাজ্যের তরফে আদালতের কাছে সময় চাওয়া হয় এদিন।

আরও পড়ুন: কথা রাখলেন নীতিশ! বিহারে ২৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকল ১০ হাজার টাকা করে
গোটা বিষয়টি ভালোমতো খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। অভিযুক্তকে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রেফতারি থেকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।












