“এমারজেন্সি জারি করুন!” বাইক ব্যান ঘিরে কমিশনকে কড়া ধমক হাই কোর্টের

Published on:

Published on:

Calcutta High Court Questions EC Over 72-Hour Bike Ban Before Polls
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন রাস্তায় বাইক চলাচলের উপর ৭২ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠল হাই কোর্টে (Calcutta High Court)। কেন এত দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা দেওয়া হল, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইল আদালত। এমনকি কমিশনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে কড়া মন্তব্যও করলেন বিচারপতি।

কমিশনকে কী বলল হাই কোর্ট (Calcutta High Court)?

ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাইক চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তকেই এদিন তীব্রভাবে প্রশ্নের মুখে ফেলল হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। বাইক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধু ক্ষমতা আছে বলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

শুনানির সময় বিচারপতি কমিশনের আইনজীবীকে সরাসরি বলেন, যদি এতটাই কড়া ব্যবস্থা নিতে হয়, তাহলে দু’দিন আগে থেকেই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ভোট করানো হোক। তাঁর কথায়, এইভাবে সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব করা ঠিক নয়। তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, বাইক বন্ধ করলে কি সব সমস্যা মিটে যাবে? তাহলে গাড়িও বন্ধ করে দেওয়া উচিত, কারণ গাড়িতেও তো অপরাধ হতে পারে।

বিচারপতির বক্তব্য, প্রশাসনের হাতে পুলিশ ও সিসিটিভি রয়েছে, তাহলে এত বড় নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন কোথায়?
বিচারপতি কমিশনের কাছে জানতে চান, গত পাঁচ বছরে বাইক ব্যবহার করে কতবার গোলমাল হয়েছে, কতটি FIR দায়ের হয়েছে তার তথ্য আদালতে পেশ করতে হবে। কোনও নির্দিষ্ট নজির ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যুক্তিযুক্ত নয় বলেই মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়াও তিনি বলেন, ভোটের সময় ক্ষমতা থাকলেও তা অপব্যবহার করা ঠিক নয়। তাঁর মতে, এতদিন ধরে সব কিছু থামিয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ আসলে প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা। এদিন আদালত (Calcutta High Court) নির্দেশ দেয়, কমিশনকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে কেন তিন দিন আগে থেকেই বাইকের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং অতীতে এরকম কোনও নেতিবাচক উদাহরণ আছে কিনা।

Calcutta High Court Hearing on EC Bike Ban Before Polls

আরও পড়ুনঃ ‘২৪০ আসন ছুঁতে পারে তৃণমূল!’ রেকর্ড ভোটে বড় ইঙ্গিত কেষ্টর

অন্যদিকে, কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত কোনও স্বার্থ এতে জড়িত নয়। আদালতের (Calcutta High Court) চূড়ান্ত রায়ের উপরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।