বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আরজি কর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও তাঁর সহযোগীদের জন্য সোমবারের দুপুরটা একেবারেই স্বস্তির ছিল না। দীর্ঘ শুনানির পর কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই পর্যায়ে তাঁদের জামিন দেওয়া যাবে না। ফলে আপাতত জেলেই থাকতে হবে সন্দীপ ঘোষ-সহ পাঁচ অভিযুক্তকে।
আরজি কর দুর্নীতি মামলায় জামিনে না বলল হাই কোর্ট (Calcutta High Court)
সোমবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চ সন্দীপ ঘোষ, আফসার আলি খান, বিপ্লব সিংহ, সুমন হাজরা এবং আশিস পাণ্ডের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালতের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণ, তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এই অবস্থায় অভিযুক্তদের মুক্তি দিলে তদন্ত প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে।
আরজি করের ডেপুটি সুপারের অভিযোগ অনুযায়ী, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি চলেছে। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার নামে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি করা হয়েছিল। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে নিজের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও পরিচিতদের বরাত পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে। তদন্তে উঠে আসে, এই চক্রে বিপ্লব সিংহ, সুমন হাজরা ও আফসার আলি খানও যুক্ত ছিলেন।
এই মামলায় গত ২ সেপ্টেম্বর প্রথম গ্রেপ্তার হন সন্দীপ ঘোষ। এরপর সিবিআইয়ের দীর্ঘ জেরার পর একে একে গ্রেপ্তার করা হয় আফসার আলি খান, বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরাকে। সবশেষে ধরা পড়েন আরজি করের হাউস স্টাফ আশিস পাণ্ডে। তদন্তকারী সংস্থা ২৯ নভেম্বর আলিপুর আদালতে পাঁচজনের বিরুদ্ধেই চার্জশিট জমা দেয়। সিবিআইয়ের দাবি, এই পাঁচজন মিলে হাসপাতালের সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
মামলার প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি করের সেমিনার হলে এক তরুণী চিকিৎসক-পড়ুয়ার নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। ওই ঘটনায় প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সন্দীপ ঘোষ এবং টালা থানার তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। ডিসেম্বর মাসে ধর্ষণ-খুনের মামলায় জামিন পেলেও সন্দীপ ঘোষ মুক্তি পাননি। কারণ, একই সময়ে দুর্নীতির মামলায় তিনি জেলবন্দি ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ ভোটের আগে বড় বার্তা! তলবের নোটিসে কড়া নির্দেশ ED-র
সোমবারের হাই কোর্টের (Calcutta High Court) রায়ের পর স্পষ্ট, ধর্ষণ মামলায় জামিন মিললেও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আপাতত মুক্তি নেই। ফলে আলিপুর জেলেই থাকতে হবে সন্দীপ ঘোষ ও তাঁর সহযোগীদের। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মামলায় আইনি লড়াই যে আরও দীর্ঘ হবে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল এদিনের রায়ে।












