বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কিছুদিন আগেই খবরের পাতায় শিরোনামে উঠে এসেছিল রাজ্যের একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্কের (Blood Bank) দুর্নীতি। অনিয়মের জেরে লাইসেন্স বাতিল করে রাজ্য সরকরের স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু রুগীর পরিবারের লোকেরা যেখানে রক্তের জন্য হন্য হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সেখানে এমন একটা সিদ্ধান্ত কেন? এই মর্মে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) তীব্র ভর্ৎসনা শুনতে হল স্বাস্থ্য দফতরকে।
ব্লাড ব্যাঙ্ক লাইসেন্স ইস্যুতে স্বাস্থ্য দফতরকে ভর্ৎসনা হাইকোর্টের
সম্পত্তি আদালতে উঠেছিল ব্লাড ব্যাঙ্কের লাইসেন্স সাসপেন্ড করে দেওয়ার মামলা। সেখানেই প্রশাসনের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা ও আইনি পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। যে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে সেটা কি আইনি নিয়ম মেনে? তীব্র ভর্ৎসনার পর আগামী ২৯শে সেপ্টেম্বর অবধি এই নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশও জারি করা হয়। এই সময়ের মধ্যেই গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট কোর্টে জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয় স্বাস্থ্য দফতরকে।
এদিন আদালতে বিচারপতি প্রশ্ন করেন, যেদিন ব্লাড ব্যাঙ্কে দল গেল, সেখানে বেনিয়ম দেখা গেল। সেই একইদিনে কোনো নথি জমা পড়ল না, এদিকে ব্লাড ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দেওয়া হল। তাদের থেকে নথি চেয়ে পাঠানোর নোটিশ কোথায়? এটাই কি সরকারের কাজের সঠিক পদ্ধতি? একটা অভিযান হল কিন্তু সবটাই মুখে মুখে? কোনো কাগজপত্র কেন নেই?
আরও পড়ুনঃ স্বাস্থ্যদফতরের সাথে সোমনাথ মন্দির যাত্রা করবে ১১০০ পুণ্যার্থী! সূচনা করতে পারেন শুভেন্দু অধিকারী
ব্লাড ব্যাঙ্কের মত একটা জীবনদায়ী পরিষেবা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের কিছু দায়িত্ব থাকে। সেটা মনে করিয়ে হাইকোর্ট আবারও জানায়, ‘সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন, অথচ প্রসাধনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখবেন না, এটা হতে পারে না। অবিলম্বে সতর্ক হন’।
সবশেষে, স্বাস্থ্য দফতরের জারি করা নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ২৯শে সেপ্টেম্বর অবধি সময় দেওয়া হয়েছে বিস্তারিত রিপোর্ট কোর্টে জমা করার জন্য। তারপর আইনি পদ্ধতি মেনেই ওই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলির উপর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না এদিনের এই ভর্ৎসনা রাজনৈতিক তথা প্রশাসনিক মহলে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।













