বাংলা হান্ট ডেস্ক : উপনির্বাচনের আগে প্রতীক বণ্টন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হল আইনি জটিলতা। আইএসএফের ‘খাম’ প্রতীক অন্য দলের হাতে যাওয়ার ঘটনায় মামলা হয়। সেই মামলার শুনানিতে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। শুনানিতে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনের থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন বিচারপতি।
কী বললেন কলকাতা হাইকোর্টের(Calcutta High Court) বিচারপতি ?
মামলাকারী আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির দাবি, দুটি বিধানসভা নির্বাচনে দলের হয়ে ব্যবহৃত ‘খাম’ প্রতীক এবার উপনির্বাচনের আগে তাঁদের হাতে রাখা হয়নি। নির্বাচন কমিশন ওই প্রতীক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’-কে দিয়েছে। নওশাদদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে ‘আলমারি’ প্রতীক।
আইএসএফের হয়ে আদালতে যুক্তি দেন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, “কমিশন সব দলের জন্যই খাম চিহ্ন ফ্রিজ করতে পারত। এতে ভোটাররা বিভ্রান্ত হত না।” কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়, প্রতীকটি আগের নির্বাচনগুলিতে স্থায়ী ভাবে কোনও দলের জন্য সংরক্ষিত ছিল না। কমিশনের আইনজীবী অনামিকা পান্ডে বলেন, “২০২১ ও ২০২৪ সালে তারা ফ্রি সিম্বল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এটা তাদের চয়েস।”
এই বক্তব্যের পরই কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। একের পর এক নির্বাচনের সময় প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন তিনি। বিচারপতির মন্তব্য, “আপনারা সব সময় এমন ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত কেন নেন?বিচারব্যবস্থাকে চিমটি কাটার জন্যই কি এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেন? ১৮৩ টি চিহ্ন আছে। যেই নির্বাচন শুরু হয় আপনারা সিদ্ধান্ত নেন আর সব রাজনৈতিক দলগুলি আদালতে চলে আসে”।
উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘খাম’ প্রতীকটি অন্য দলের মতো সংরক্ষিত রাখা হল না কেন, সেই প্রশ্ন তুলে বিচারপতি বলেন,”উপনির্বাচনে কেন আপনারা এটা ফ্রিজ রাখলেন না অন্য দলের মতো? কমিশনের উচিৎ নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করা। মাত্র চার মাস আগে যে প্রতীক একটি দল ব্যবহার করেছিল, সেটা বদলে গেল? এখন রুল আইন দেখাচ্ছেন?” মামলার শুনানিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বক্তব্যও উঠে আসে। ওই পক্ষের আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্যকে বিচারপতি সরাসরি জানতে চান, “এটা অন্য দলের আপনারাই বা কেন খাম চাইলেন?” জবাবে বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা তিনটি চিহ্ন দিয়েছিলাম। আমাদের চিহ্ন ফ্রিজ করে দেওয়া হয়।”

আরও পড়ুন : টোটোর দৌরাত্ম্যে লাগাম! বড় রাস্তা ও বাস রুটে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কড়া পরিবহণ দপ্তর
হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে, প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে কেন কোনও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য কমিশনকে সময় দেওয়া হয়েছে আগামীকাল পর্যন্ত। আগামী শুনানিতে নির্বাচন কমিশন কী ব্যাখ্যা দেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। উপনির্বাচনের আগে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতের পরবর্তী পর্যবেক্ষণ তাই রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।













