বাংলা হান্ট ডেস্কঃ মা-বাবা ডিভোর্সের পর ফের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও ছেলেমেয়েদের এতদিন পুরনো পরিচয় বয়ে বেড়াতে হত। জন্ম শংসাপত্রে (Birth Certificate) পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে দেখা যেত আইনি জটিলতা। তবে এবার তা দূর করে ঐতিহাসিক রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী জানালেন, জন্মদাতা বাবাই শুধু নয়, সৎ বাবাও ছেলেমেয়ের পূর্ণ অভিভাবক হতে পারেন।
ঐতিহাসিক রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট | (Calcutta High Court)
পূর্ব বর্ধমানের একটি মামলার প্রেক্ষিতে এই রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। মামলার বিবরণ থেকে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে শুভঙ্কর কর্মকারের সঙ্গে এক মহিলার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে দম্পতির এক পুত্রসন্তান হয়েছিল। তবে সাংসারিক অশান্তির কারণে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন তাঁরা। পরের বছর মার্চ মাসে রাজেশ ঘোষের সঙ্গে ফের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ওই মহিলা। এরপর সন্তানের পরিচয় নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি।
আরও পড়ুনঃ TET নিয়ে বড় স্বস্তির ইঙ্গিত! ২০১০-এর আগে নিয়োগ শিক্ষকদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত
কারণ পুরসভার তরফে ইস্যু করা জন্ম শংসাপত্রে জন্মদাতা বাবার নাম উল্লেখ ছিল। ফলে স্কুলে ভর্তি সহ নানা ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। এদিকে শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে মহিলার দ্বিতীয় স্বামীর কোনও অসুবিধা ছিল না। তবে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট কোনও আইন না থাকার অজুহাতে পূর্ব বর্ধমান পুরসভার তরফে নাম বদলে আপত্তি জানানো হয়।
পুর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, জন্ম শংসাপত্রে একবার বাবার নাম নথিভুক্ত হয়ে গেলে তা আর বদলানো যায় না। এরপরেই জল গড়ায় হাইকোর্ট অবধি। পুরসভার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। শুনানির সময় শিশুটির জন্মদাতা বাবাও আদালতে জানান, নাম বদলের এই আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর কোনও আপত্তি নেই।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি বসু চৌধুরীর নির্দেশ, পুরসভা কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে ওই শিশুটির নতুন জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করতে হবে। এই রকম ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত কঠোর হওয়ার দরকার নেই। বাস্তব পরিস্থিতির ভিত্তিতে নথি সংশোধন করা উচিত।
হাইকোর্টের আরও নির্দেশ, নাবালক শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর যদি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী কোনও সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই অনুযায়ী নতুন শংসাপত্র চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। পাশাপাশি পুরসভার তরফে যে নতুন জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হবে, সেখানে পুরনো সনদ ইস্যুর তারিখ ও ক্রমিক নম্বরের উল্লেখ থাকতে হবে।

এই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের ‘আকেলা ললিতা’ মামলার রায় ও জন্ম-মৃত্যু আইন ১৯৬৯-এর ১৫ নং ধারা উল্লেখ করে বিচারপতি বসু চৌধুরী জানান, বর্তমানে সমাজ অনেক এগিয়ে গিয়েছে। এখন আর রেজিস্টারে বাবার নাম ধরে রাখা জরুরি নয়।
কলকাতা হাইকোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এর ফলে পূর্ব বর্ধমানের ওই পরিবারের পাশাপাশি আরও অনেক পরিবারের সুরাহা হতে পারে।













