বাংলা হান্ট ডেস্ক : শিক্ষক বদলি নিয়ে রাজ্যের নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগেই কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) বড় ধাক্কা খেল শিক্ষা দফতর। স্কুলে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন—এই যুক্তিতে বদলির যে প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল, আপাতত তাতে লাগাম টানল হাইকোর্ট। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চপ্রাথমিক স্তরের স্কুলগুলিতে কার্যকর হতে চলা সংশোধিত বদলি নীতির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি হয়েছে।
শিক্ষক বদলি নিয়ে বড় নির্দেশ হাইকোর্টের (Calcutta High Court)
গত ২৪ জুলাই প্রকাশিত সংশোধিত SOP-কে ঘিরেই তৈরি হয়েছে এই আইনি জটিলতা। ওই নির্দেশিকায় স্কুলে ‘উদ্বৃত্ত’ শিক্ষক শিক্ষিকাদের চিহ্নিত করে তাঁদের অন্য স্কুলে যাওয়ার সুযোগ বা নির্দেশ দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হয়েছিল। বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশে সেই SOP-র কার্যকারিতা আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
প্রসঙ্গত, একজন শিক্ষিকার বদলি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত থেকেই মামলাটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের বনমালীপুর সন্তোষ ভট্টাচার্য মেমোরিয়াল হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা সোমা সরদারকে স্কুলের প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এরপর তাঁকে অন্য একটি স্কুল নির্বাচন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ২০১৩ সাল থেকে ওই প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষকতা করছেন তিনি।
মামলাকারীর হয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবী উজ্জ্বল রায়। তাঁর বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট স্কুলে ইংরেজি বাধ্যতামূলক বিষয় হওয়া সত্ত্বেও সোমা সরদারকে উদ্বৃত্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই স্কুলে তিনিই একমাত্র পাস গ্র্যাজুয়েট ইংরেজি শিক্ষক বলেও আদালতে জানানো হয়। ফলে শুধুমাত্র শিক্ষকের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও ছাত্রসংখ্যা, নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রয়োজন এবং পড়ানোর চাপের মতো বাস্তব বিষয়গুলি যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
হাইকোর্টের নির্দেশের পর আপাতত জুলাইয়ের সংশোধিত SOP অনুসারে শিক্ষক বাছাই বা বদলির পরবর্তী প্রশাসনিক কাজ স্থগিত ফলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নতুন প্রতিষ্ঠান পছন্দ করা থেকে শুরু করে বদলির সঙ্গে যুক্ত আনুষঙ্গিক পদক্ষেপগুলিও সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে।

বাংলা হান্ট ডেস্ক : সরকারের কাছে যথেষ্ট টাকা থাকা সত্ত্বেও বকেয়া DA মেটাচ্ছে না! মামলার মাঝেই বিস্ফোরক সরকারি কর্মীরা
এই নিয়মের ভিত্তিতে যাঁদের স্কুলে ‘উদ্বৃত্ত’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল এবং বদলির প্রক্রিয়ার মধ্যে আনা হয়েছিল, রাজ্যের সেই শিক্ষক-শিক্ষিকারাও আপাতত স্বস্তি পেতে পারেন। স্কুলে শিক্ষক প্রয়োজন নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী বদলির যে নতুন পদ্ধতি শিক্ষা দফতর কার্যকর করতে চেয়েছিল, সেটি আপাতত আদালতের নজরদারিতে। একটি বদলি সংক্রান্ত মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সংশোধিত শিক্ষক বদলি ব্যবস্থার কার্যকারিতাই সাময়িকভাবে আটকে গেল।













