বাংলাহান্ট ডেস্ক: আমেরিকা- ইজরায়েল-ইরানের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সঙ্কট এখনও বর্তমান। এই আবহে মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামাল দিতে শুল্ক (Custom Duty) কমিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। সপ্তাহখানেক আগে পেট্রল ও ডিজেলের উপর অন্তঃশুল্ক কমানোর পর এবার অন্তত ৪০টি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের উপর শুল্ক পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রকের তরফে জারি করা বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আপাতত আগামী তিন মাস অর্থাৎ ৩০ জুন পর্যন্ত এই শুল্ক মকুব থাকবে। যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে কাঁচামালের যোগান স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যুদ্ধের আবহে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যে শুল্ক (Custom Duty) প্রত্যাহার কেন্দ্রের
এর আগে গত সপ্তাহে পেট্রল ও ডিজেলের উপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে অন্তঃশুল্ক কমানো হয়েছিল। ফলে পেট্রলের উপর শুল্ক নেমে আসে ৩ টাকায় এবং ডিজেলের উপর শুল্ক শূন্যে পৌঁছয়। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সহ মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরা। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব দেশের উপর যাতে কম পড়ে, সেই লক্ষ্যেই ধারাবাহিকভাবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ৫৪ বছর পর ফের চাঁদের কাছাকাছি মানুষ! ইতিহাস গড়ল NASA-র আর্টেমিস-২ মিশন
কেন্দ্রের এই নতুন সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে প্লাস্টিক, বস্ত্র, ফার্মাসিউটিক্যাল-সহ একাধিক শিল্পক্ষেত্র। পেট্রোকেমিক্যাল হল বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল কাঁচামাল। ফলে এর উপর শুল্ক তুলে দিলে উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমবে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। অর্থ দপ্তরের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও যাতে বাজারে পণ্যের ঘাটতি না তৈরি হয়, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ।
তবে বিশ্লেষকদের একাংশের মত, এই শুল্ক হ্রাসের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি নয়। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম এখনও অস্থির। ফলে জ্বালানি বা পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমবে না বলেই মত তাঁদের। তবুও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতে এবং মূল্যবৃদ্ধির গতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: কীভাবে বাংলায় জিতবে BJP? জয়ের ‘শর্টকাট’ ফাঁস করলেন অমিত শাহ!
উল্লেখ্য, ইরান, ইজ়রায়েল ও আমেরিকার সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভারতের তেল ও গ্যাস আমদানিতে প্রভাব পড়েছে। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের লক্ষ্য, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যে শুল্ক (Custom Duty) কমিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানো।












