AI-র অপব্যবহারে লাগাম! ডিপফেক মুছতে সোশ্যাল মিডিয়াকে ৩ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল কেন্দ্র

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ডিপফেক ভিডিও, ভুয়ো ছবি কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) সাহায্যে তৈরি আপত্তিকর অডিও-ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এই প্রবণতায় লাগাম টানতে এবার তথ্যপ্রযুক্তি নিয়মে বড়সড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনল ভারত (India) সরকার। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) নতুন খসড়া নিয়মে এআই-নির্ভর ক্ষতিকারক ও বেআইনি কনটেন্টের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন একটি ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ইন্টারনেট হবে নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং ব্যবহারকারীদের জন্য আরও দায়বদ্ধ।

AI (Artificial Intelligence)-র অপব্যবহার রুখতে বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

প্রস্তাবিত নিয়মে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে বেআইনি এআই কনটেন্ট সরানোর সময়সীমা কমিয়ে আনা। বর্তমানে সরকার বা আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সরাতে প্ল্যাটফর্মগুলির হাতে ৩৬ ঘণ্টা সময় থাকে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সেই সময় এক ধাক্কায় কমে মাত্র ৩ ঘণ্টা হতে পারে। অর্থাৎ কোনও আদালতের বৈধ নির্দেশ বা সরকারের তরফে বেআইনি ও ক্ষতিকারক এআই-নির্মিত কনটেন্ট চিহ্নিত করার পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং অন্যান্য ইন্টারমিডিয়ারি সংস্থাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা ব্লক বা মুছে ফেলতে হবে। সরকারের মতে, দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে ক্ষতিকারক কনটেন্টের ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: CNG-PNG-তেও মিশবে বায়োগ্যাস! ১০ বছরের গোবরধন প্রকল্পে ২৩,৭৩১ কোটি খরচ করবে কেন্দ্র

এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট চেনার ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ছবি, ভিডিও, অডিও কিংবা লেখা প্রকাশ করা হলে তার সঙ্গে স্পষ্টভাবে ‘AI-Generated’ লেবেল বা চিহ্ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। শুধু দৃশ্যমান লেবেল নয়, সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল কনটেন্টের সঙ্গে মেটাডেটা যুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে, যাতে প্রয়োজনে তার উৎস ও কৃত্রিমভাবে তৈরির বিষয়টি শনাক্ত করা যায়। এর ফলে কোনও ছবি বা ভিডিও আসল নাকি এআইয়ের সাহায্যে তৈরি, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তি কিছুটা কমবে বলে মনে করছে সরকার।

ডিপফেক, এআই ব্যবহার করে পরিচয় জাল করা, শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া তৈরি ঘনিষ্ঠ ছবি বা ভিডিওর মতো গুরুতর বিষয়েও কড়া পদক্ষেপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি বা ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে প্ল্যাটফর্মগুলিকে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা বা অটোমেটেড টুল ব্যবহার করার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তির উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। সাধারণ অভিযোগ মেটানোর সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৩৬ ঘণ্টা করার প্রস্তাব রয়েছে। আর নগ্নতা বা ছদ্মবেশের মতো সংবেদনশীল অভিযোগের ক্ষেত্রে বর্তমান ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ২ ঘণ্টা করার কথা বলা হয়েছে। বেআইনি এআই কনটেন্ট শেয়ার করলে তার সম্ভাব্য আইনি পরিণতি সম্পর্কেও ব্যবহারকারীদের আগে থেকে সচেতন করার দায়িত্ব প্ল্যাটফর্মগুলির উপর দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।

Central govt takes major step to curb misuse of Artificial Intelligence

আরও পড়ুন: শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গাফিলতি! Meta-কে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ মার্কিন আদালতের

তবে এই মুহূর্তে কোনও সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয়। কেন্দ্রীয় সরকার প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলিকে আপাতত খসড়া হিসেবেই প্রকাশ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, অংশীদার ও সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হয়েছে। সেই মতামত এবং বিভিন্ন পক্ষের পরামর্শ পর্যালোচনা করার পরই চূড়ান্ত নিয়ম তৈরি করবে মন্ত্রক। ফলে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে প্রস্তাবিত ধারাগুলির কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে খসড়া নিয়মের সামগ্রিক বার্তা স্পষ্ট—এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, তার অপব্যবহার ঠেকাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের দায়ও আরও বাড়বে (Artificial Intelligence)।