বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের যুবসমাজকে জুয়ার নেশার গ্রাস থেকে রক্ষা করতে এবং অনলাইন বেটিংয়ের (Online Betting Apps) কারণে আর্থিক সর্বনাশ ঠেকাতে ফের বড়সড় ‘ডিজিটাল স্ট্রাইক’ চালাল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার কেন্দ্রের নির্দেশে ২৪২টি অবৈধ অনলাইন বেটিং ও গ্যাম্বলিং ওয়েবসাইটের লিঙ্ক ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘অনলাইন গেমিং অ্যাক্ট’-এর আওতায় এই কড়া পদক্ষেপ করা হয়েছে। মূলত যেসব প্ল্যাটফর্ম বেআইনিভাবে জুয়া ও বাজির পরিষেবা দিচ্ছিল এবং সাধারণ মানুষকে আর্থিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছিল, সেগুলিকেই চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
২৪২টি অবৈধ অনলাইন বেটিং (Online Betting Apps) সাইট ব্লক করল কেন্দ্র
উল্লেখ্য, গত বছরের অগস্ট মাসে সংসদে পাশ হয়েছিল ‘দ্য প্রোমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অফ অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতি পাওয়ার পর থেকেই এই আইন কার্যকর হয় এবং ধাপে ধাপে অবৈধ গেমিং প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে কেন্দ্র। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ৭,৮০০-টিরও বেশি অবৈধ অনলাইন গ্যাম্বলিং ওয়েবসাইট ও অ্যাপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
আরও পড়ুন:‘কাঙাল’ পাকিস্তানের শোচনীয় অবস্থা! এবার সেনা-নিয়ন্ত্রিত সংস্থাও বিক্রি করতে চায় সরকার
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO ইতিমধ্যেই গেমিং আসক্তিকে একটি গুরুতর মানসিক ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতারাতি বড়লোক হওয়ার লোভ দেখিয়ে এই অবৈধ অ্যাপগুলি মূলত তরুণদের টার্গেট করে। একবার আসক্ত হয়ে পড়লে অনেকেই বিপুল অর্থ হারান, যার জেরে পরিবারগুলির আর্থিক ভারসাম্য ভেঙে পড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়ার কারণে ঋণের বোঝা, পারিবারিক অশান্তি এমনকি আত্মহত্যার ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে।
তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য কোনওভাবেই বৈধ ডিজিটাল গেমিং শিল্পের বিকাশে বাধা দেওয়া নয়। ই-স্পোর্টস, শিক্ষামূলক গেম, দক্ষতা-ভিত্তিক ও গঠনমূলক অনলাইন গেমগুলিকে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, অবৈধ জুয়া ও বেটিংয়ের সঙ্গে বৈধ গেমিংয়ের পার্থক্য স্পষ্ট করতেই এই আইন ও নজরদারি ব্যবস্থা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: একসময়ে চরম অর্থাভাবে কাটিয়েছেন দিন! এখন মাত্র ১০০ টাকায় অভাবীদের চিকিৎসা করছেন তারকেশ্বর
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ ডিজিটাল দুনিয়াকে আরও নিরাপদ ও দায়িত্বশীল করে তুলতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকেও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে তরুণ প্রজন্ম সহজে অনলাইন জুয়ার ফাঁদে না পড়ে। সরকারের আশা, কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার দৌরাত্ম্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।












